kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবিশেষ

হাজার বছরের উষ্ণ পৃথিবী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পৃথিবী যে হারে উষ্ণ হয়ে উঠছে, তা গত এক হাজার বছরের মধ্যেও দেখা যায়নি। এই গতিকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-নাসার পরিবেশবিজ্ঞানীরা।

সম্প্র্রতি পৃথিবীজুড়ে উষ্ণতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। চলতি বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা ১৯ শতকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে উল্লেখ করা ১.৫ ডিগ্রির ‘বিপজ্জনক’ মাত্রার কাছাকাছি। চলতি বছরের জুলাই ছিল ১৮৮০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা ইতিহাসের উষ্ণতম মাস। ২০১৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে প্রতি মাসেই তৈরি হয়েছে উষ্ণতার নতুন নতুন রেকর্ড।

নাসার গডারড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের পরিচালক গ্যাভিন শিমিদ বলেন, ‘গত ৩০ বছরে আমরা অস্বাভাবিক একটি অবস্থায় প্রবেশ করেছি। এ অবস্থা গত এক হাজার বছরের মধ্যে ঘটেনি। বিংশ শতকেও কখনো এমন অবস্থা দেখা যায়নি। ’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রির নিচে রাখতে হলে অবিলম্বে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু আমরা এখনো তা করছি না। ’

গ্যাভিন আরো জানান, ২০১৬ সালে উষ্ণতার রেকর্ড যে সর্বোচ্চ হবে, তা ধারণা করা হয়েছিল। কেননা ২০১৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওপর এল-নিনোর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছি। এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে বিষয়টি এখানেই থেমে থাকবে। তাপমাত্রা বাড়ার কোনো বিরতি ঘটছে না। আগামী ১০০ বছর এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে পৃথিবীর মানুষকে। ’

ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বরফ যুগের পর সাধারণভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা পাঁচ হাজার বছরে ৪ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে তাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু এখন পৃথিবীর তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে, তা সেই গতির ১০ গুণ বেশি। এই হার থেকে হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, আগামী ১০০ বছরে এ হার হবে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। সূত্র : গার্ডিয়ান।


মন্তব্য