kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইকোর্টের প্রশ্ন

কে ক্ষমতাধর বিচারপতি, নাকি ইউপি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কে ক্ষমতাধর বিচারপতি, নাকি ইউপি চেয়ারম্যান

কে ক্ষমতাধর? সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, নাকি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস? প্রশাসন চোরের পক্ষে থাকবে, নাকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির আদেশ মানবে? এসব প্রশ্ন গতকাল বুধবার প্রকাশ্য আদালতে উত্থাপন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর।

গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর বলেছেন, ‘মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী আড়ুয়াকান্দি গ্রামের একটি মন্দির থেকে ১৬০ ভোল্টের সোলার প্যানেল চুরি করে তা নিজের শশুরবাড়িতে স্থাপনের অভিযোগ আনে।

সেই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের সরকারি জায়গা থেকে চারটি গাছ কেটে ব্যক্তিগত ভবনে ব্যবহার করার অভিযোগও আছে। এই অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে আমি নিজে জানানোর পরও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এটা দুঃখজনক। ’

পাসপোর্টের জন্য তথ্য যাচাইয়ের নামে হাইকোর্টের একজন বিচারপতির বাসায় গিয়ে পুলিশের এএসআই সালামের ঘুষ দাবির বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ওই মন্তব্য করেন।

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর আদালতে বলেন, ‘গত ২৪ আগস্ট আমি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামে যাই। আমার এক নিকটাত্মীয়ার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সেখানে যাই। এ সময় এলাকাবাসী কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওই সব অভিযোগ নিয়ে আসে। এ সময় সেখানে প্রশাসনের লোকজন ছিল। তাদের এ বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করে এর সত্যতা পায়। কিন্তু তারা ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সোলার প্যানেল চুরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠলে ওই চেয়ারম্যানের লেকজন একদিন রাতের আঁধারে ওই মন্দিরে ৬০ ভোল্টের একটি সোলার প্যানেল লাগিয়ে যায়। এ অবস্থায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কিন্তু তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির কথা আমলে নেননি। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির কথা তাঁদের কাছে কিছু না। এই হলো অবস্থা। ’ এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ করে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর বলেন, ‘আমি বলার পরও চুরির বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে ওই এলাকার জনগণের মনে কী ধারণা সৃষ্টি হবে বলুন তো?’


মন্তব্য