kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি

এখনো নিখোঁজ ৪০ জঙ্গি তৎপরতায় জড়ানোর শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এখনো নিখোঁজ ৪০ জঙ্গি তৎপরতায় জড়ানোর শঙ্কা

র‌্যাবের পর এবার নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘আমরা দেশব্যাপী নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করেছি।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, এখনো ৪০ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। তাদের জঙ্গি তৎপরতায় জড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবারগুলোও একই কথা বলছে। ’ 

আইজিপি বলেন, ‘র‌্যাব ও এসবির করা নিখোঁজ তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর আমরা জানতে পেরেছি, সারা দেশে নিখোঁজের সংখ্যা ৪০। ’ এরা জঙ্গি দলে ভিড়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিখোঁজ হওয়ার আগে এদের চালচলন, কথাবার্তা পরিবর্তনের বিষয়ে যে তথ্য আমরা পেয়েছি তাতে ধারণা করা হচ্ছে, এদের অনেকে জঙ্গি দলে ভিড়েছে। তা ছাড়া এদের অনেকেই নিখোঁজ হওয়ার পর ফোন কিংবা এসএমএসে পরিবারকে জানিয়েছে, তারা ভালো আছে। তবু তাদেরকে খুঁজে বের করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ’ এ ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করতে নিখোঁজদের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশপ্রধান বলেন, জঙ্গিরা ফিরে এলে তাদের আইনের মধ্যে থেকে সহায়তা করা হবে। যে জঙ্গি হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি তাকে সহায়তা করা হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে কিংবা চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে ফিরে এসেছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, তারা কোনো হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, শুধু জঙ্গিদের সমর্থক ছিল। তার পরও নিরাপত্তার কারণে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। নজরদারিতে রেখে তাদের সংশোধনের চেষ্টা করা হচ্ছে।  

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে নিহত তিন জঙ্গির নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন আইজিপি। এই তিনজনের একজন হলো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী, তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। অন্য দুজন হলো যশোর সদরের কাজী ফজলে রাব্বী ও রাজধানীর ধানমণ্ডির তওসিফ হোসেন। তামিমকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও ছিল। পুরস্কারের সেই টাকা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে জানান আইজিপি।

সাম্প্রতিক জঙ্গি অভিযানগুলো সাজানো মর্মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে দুঃখজনক উল্লেখ করে পুলিশপ্রধান বলেন, পুলিশের অভিযানে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না। বিএনপি চেয়ারপারসনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাঁর নিজস্ব লোক আছে। তদন্ত করে দেখতে পারেন ঘটনা সাজানো কি না। এ সময় আইজিপি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জজ মিয়া নাটকের সমালোচনা করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ২০০৭ সালের পর থেকে পুলিশ কোনো ঘটনায় জজ মিয়া নাটক সাজায়নি।

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পর এসপি বাবুল আক্তারের পদত্যাগের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘বাবুল আক্তার ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরও আমরা দেড় মাস অপেক্ষা করেছি। পরে পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। ’

আইজিপি বলেন, ‘২০১৩ সালে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পুলিশ ও গোয়েন্দারা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। এই সুযোগে জঙ্গিরা সংঘবদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ফেসবুক, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তারা মোটিভেটেড ও সংগঠিত হয়। তবে পুলিশ এখন বুঝতে পেরেছে তারা কিভাবে সংগঠিত হয়, মোটিভেটেড হয়। তাই পুলিশ এখন সতর্ক। আমরা আশা করছি, এই ধরনের মোটিভেটিং কার্যক্রম আর বাড়বে না। বিপথগামী তরুণরা ফিরে এলে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ’

ঈদে নিরাপত্তার ব্যাপারে আইজিপি বলেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গরুর হাটকেন্দ্রিক বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যেন কোনো ধরনের চাঁদা আদায় না হয় সে জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চামড়া যাতে দেশের বাইরে পাচার না হয় সে জন্য সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি থাকবে। পাড়া-মহল্লায় চামড়া ব্যবসা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবির প্রধান ডক্টর জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) ফাতেমা বেগম, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (প্রশাসন) বিনয়কৃষ্ণ বালা, ডিআইজি (মিডিয়া) এ কে এম শহিদুর রহমান প্রমুখ।


মন্তব্য