kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি শামীমের স্বীকারোক্তি

প্রকাশক দীপন হত্যায় নির্দেশদাতা মেজর জিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রকাশক দীপন হত্যায় নির্দেশদাতা মেজর জিয়া

ব্লগার ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এক জঙ্গি নেতা দাবি করেছে, সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটেছে। মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত ওরফে নাসির ওরফে ইমরান নামের এ জঙ্গি নেতাকে ২৩ আগস্ট গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (বর্তমানে আনসার আল ইসলাম) এই সদস্য গত রবিবার ঢাকার  মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, জবানবন্দিতে দীপন হত্যার পরিকল্পনা, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণসহ বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। জবানবন্দিতে মইনুল হাসান শামীম জানিয়েছে, তার সাংগঠনিক নাম সিফাত ওরফে নাসির ওরফে ইমরান। ২০১০ সালে ইংরেজি শেখার জন্য সিলেট এফএম মেথড নামের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলে রাফি ওরফে অমি নামে হিজবুত

তাহ্রীরের এক সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১৪ সালে সিলেট শহরের মদনমোহন ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় সিলেট শহরের একটি মেসে পরিচয় হয় সাগর নামে বড় ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁর মাধ্যমে আনসার আল ইসলামে যুক্ত হয়ে এক সময় শামীম জানতে পারে বড় ভাই ওরফে সাগর আসলে ‘মেজর জিয়া’। তাঁর অন্যতম সহযোগী হচ্ছে সেলিম ওরফে হাদী। বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ২০১৫ সালের প্রথম দিকে অন্যদের নিয়ে সাভারে ব্লগার রিয়াদ মোর্শেদ বাবুকে হত্যা করে বলে শামীম জানিয়েছে। ব্লগার, লেখক ও প্রকাশক খুনের বিভিন্ন ঘটনার মূল হোতা বড় ভাই ওরফে সাগর, যাঁর আসল নাম মেজর জিয়া বলে দাবি করেছে জঙ্গি শামীম।

জবানবন্দি অনুসারে শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক দীপন ও লালমাটিয়ার শুদ্ধস্বরের প্রকাশক টুটুলকে হত্যার নির্দেশ পেয়ে প্রশিক্ষণ নেয় শামীমসহ অন্য জঙ্গিরা। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করেছে, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর এবিটির সামরিক শাখার সদস্য আসাদ, আকাশ, আলম, তৈয়ব ও জনি প্রকাশক দীপনকে হত্যার জন্য আজিজ মার্কেটে যায়। একই দিন টঙ্গী থেকে শরিফুল ওরফে শাকিব, সুজন ওরফে আবদুল সামাদ, শিহাব, রাফিসহ কয়েকজন লালমাটিয়ার শুদ্ধস্বরের প্রকাশক টুটুলকে হত্যা করতে আসে। তারা টুটুলসহ আরো দুজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এদিন বিকেল ৪টার সময় সামরিক শাখার সদস্যরা প্রটেক্টেড টেক্সট পাঠায় অভিযান সফল বলে।

এরপর সে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে মোহাম্মদপুরে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং পরে উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় মেসে অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকে। গত ২৩ আগস্ট টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেটের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে শামীম জবানবন্দিতে জানিয়েছে।


মন্তব্য