kalerkantho


নির্বাচনোত্তর সহিংসতা

গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যু, আরো ৩৫ জন আহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যু, আরো ৩৫ জন আহত

দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চলছেই। এর মধ্যে গত শুক্রবার সকালে  মাদারীপুরের কুনিয়া ইউনিয়নে দিয়াপাড়া গ্রামে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তাঁর নাম হাসান বেপারী (৩০)। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছিল।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের চিত্রকোট ইউনিয়নে পরাজিত প্রার্থীর এক সমর্থককে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ।   মাগুরায় এক কলেজ ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বগুড়ার সোনাতলা ও শিবগঞ্জে সংঘর্ষে ২৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোনাতলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগের দিন গত শুক্রবার আট জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় অন্তত ১০৪ জন আহত হয়েছিল। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

মাদারীপুর : মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী

লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হাসান বেপারী (৩০) মারা গেছেন।

তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলা হুমলী গ্রামের বাহাদুর বেপারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সানোয়ার হোসেন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাহেব আলী অংশগ্রহণ করলেও দুই প্রার্থীই পরাজিত হন।

এ নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে। এরই জের ধরে শুক্রবারের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন সাহেব আলী গ্রুপের হাসান বেপারী। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মারা যান হাসান বেপারী। মাদারীপুর সদর থানার ওসি মো. জিয়াউল মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানের চিত্রকোট ইউনিয়নে বিজয়ী প্রার্থী সামছুল হুদা বাবুলের সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী শামসুজ্জামান মিরাজের এক সমর্থককে কুপিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর নাম জাহিদুল ইসলাম (৩০)। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা-নবাবগঞ্জ রোডের তুলশীখালী ব্রিজের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাবুলের সমর্থক স্থানীয় সন্ত্রাসী সফিউদ্দিন, শহিদুল, ইকবাল, ইমরান, আলাল, নাসিরসহ ক্যাডার বাহিনী তাঁর গতিরোধ করে। এরপর চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর বাসযাত্রীরা জাহিদুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করে।

মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার মালন্দ গ্রামে স্বরূপ বিশ্বাস (২২) নামের এক কলেজ ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। তাঁকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বরূপ মাগুরা এমসিইটি কলেজের ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কলেজ ছাত্র স্বরূপ জানান, শনিবার দুপুরে কয়েক যুবক তাঁদের গ্রামে ঢুকে প্রথমে তাঁকে অপহরণ করে। পরে একটি মাঠ এলাকায় নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ৩১ মার্চ আঠারোখাদা ইউনিয়ন নির্বাচনে তাঁর পরিবার স্বতন্ত্র প্রার্থী অমরেশ বিশ্বাসের পক্ষে কাজ করেছে বলে বিজয়ী চেয়ারম্যান সঞ্জিবন বিশ্বাসের সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে।

বগুড়া : বগুড়ার সোনাতলায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই মেম্বার পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে  উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি ২৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। সহিংসতা এড়াতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল দুপুরে দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে একই গ্রামের ব্যাপারী পরিবারের প্রার্থী সেলিম পরাজিত হন এবং মিয়া পরিবার থেকে আব্দুস সামাদ বিজয়ী হন। এরপর শনিবার দুপুরের দিকে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় পরাজিত ইউপি সদস্যর সমর্থকদের হামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী পাঁচ ব্যক্তি আহত হয়েছে। তাদের সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে উপজেলা সদরে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ সমাবেশ করেছে।

অন্যদিকে শুক্রবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পিরবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের আটজন আহত হয়। এর মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী আবুল কাশেমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


মন্তব্য