kalerkantho


র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপ

দুর্গম সড়কে দুরন্ত গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দুর্গম সড়কে দুরন্ত গতি

গতকাল রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার বালুর মাঠে তৃতীয় র্যা লিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘টেলিভিশনের পর্দায় বহুবার কার রেস দেখেছি। তবে এই প্রথম সরাসরি কার রেস দেখার সুযোগ পেয়েছি।

টিভিতে দেখলে যতটা উত্তেজনা বোঝা যায়, বাস্তবে তার চেয়ে শতগুণ বেশি। গাড়ি যখন চলে, তখন ড্রাইভারের চেয়ে মনে হয় আমার উত্তেজনাটাই বেশি। এখানে এসে এমনটাই ধারণা হয়েছে। ’ কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত শুভ। শুভর মতো অনেকেই গতকাল শনিবার হাজির হয়েছেন রাজধানীর কুড়িলের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার বালুর মাঠে। এখানে আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র কার রেসিং প্রতিযোগিতা ‘তৃতীয় র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৬’।

বাংলাদেশ মোটরস্পোর্টস এই র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক এটির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেড অব অপারেশনস এম এম জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ মোটরস্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী এস এস সারোয়ার, রহিমআফরোজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুদাসসির মুর্তজা মইন, সেমস গ্লোবালের সভাপতি ও গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম প্রমুখ।

বসুন্ধরার বালুর মাঠ একটা বিশাল ফুটবল মাঠের মতো। রেসিং ল্যাপের মতোই পথটুকু উঁচু-নিচু এবং আঁকাবাঁকা। এই পথে রেসাররা খুব বেশি একটা গতি তুলতে পারেননি। কারণটা হলো বালু। তার পরও এই ট্র্যাকেই দক্ষতা দেখানোর চেষ্টা করেছেন চালকরা। শক্ত হাতে স্টিয়ারিং ধরে পাড়ি দিয়েছেন পথটুকু। দর্শকদেরও উৎসাহের কমতি ছিল না। চিৎকার-চেঁচামেচি করে দর্শকরা সমর্থন জানিয়েছে নিজেদের পছন্দের গাড়িকে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপ দেখতে কনভেনশন সিটির মাঠে ভিড় জমতে থাকে। গত বছর র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়েছিল বাণিজ্য মেলার মাঠে। বসুন্ধরার মাঠ বাণিজ্য মেলার মাঠের চেয়ে অনেকটাই ছোট। মাঠ ছোট হলেও গতবারের চেয়ে এবারের আয়োজন অনেক বড়। ফলে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকসমাগমে জমে উঠেছে কার রেসিং।

র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপে নির্দিষ্ট বিরতিতে একজন রেসার তিনটি ল্যাপ পার হওয়ার সুযোগ পান। গাড়ির গতির চেয়ে এখানে চালকের দক্ষতা এবং ল্যাপের বাঁকগুলো তিনি কিভাবে পার হচ্ছেন সেটাই বিবেচনায় আনা হয়। স্বল্প জায়গায় আঁকাবাঁকা পথে কে কত দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারেন। এতে চালকের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করা যায় বলে জানান আয়োজকরা। এবারের মোটর র‌্যালিক্রসে ৩৩টি গাড়ি অংশ নেয়। এর মধ্যে নেপাল থেকেই দুজন এ র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিতে দুজন নারী চালকও অংশ নেন। মাত্র এক কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যিনি সবচেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছেন, তাঁকে র‌্যালির চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

র‌্যালির উদ্বোধনকালে মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘এই খেলা আস্তে আস্তে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই খেলার মাধ্যমে চালকদের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে যায়। ’ তিনি বলেন, ‘মেয়র হিসেবে আমাকে নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়, কখনো মশা তাড়াতে, কখনো মাস্তান হটাতে, কখনো বা ময়লা সরাতে। আজ মোটর র‌্যালিতেও ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। ’

আনিসুল হক বলেন, ‘ময়লা সরাতে মেয়র উত্তরে তিন থেকে চার কাঠা করে অন্য সংস্থার জায়গা দখল করেছেন, যা সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ বিঘার মতো হয়েছে। অথচ মেয়রের অফিস মাত্র একটি ভালো মানের বাথরুমের সমান। এ নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের নিরিখে সব কিছুই পরিবর্তিত হবে। একসময় মেয়রের জায়গাও হবে। এই যেমন মোটর র‌্যালি একসময় ভাবাই দুষ্কর ছিল, এখন সেটিও হচ্ছে। ’

র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ মোটরস্পোর্টস। এটি সেমস বাংলাদেশের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একমাত্র মোটরস্পোর্টস ইভেন্টের আয়োজক। দেশে অটোমোবাইলকে জনপ্রিয় করতে ২০০৬ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এর কর্ণধার মেহেরুন এন ইসলাম জানান, ‘মোটর স্পোর্টস জনপ্রিয় করতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মোটরস্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা রয়েছে বছরে কয়েকটি র‌্যালিক্রস আয়োজন করার। ’ এ ছাড়া আন্তজেলা র‌্যালি, অটোক্রসের মতো মোটর স্পোর্টিং ইভেন্ট করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

র‌্যালিক্রস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শ্রেণির বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এবারের টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কর্ণফুলী গ্রুপ, সহপৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্যুরিজম বোর্ড ও বসুন্ধরা গ্রুপ।


মন্তব্য