kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রিজার্ভ চুরি
♦ সিআইডির দল যেতে পারে কাল
♦ বন্ধুর মাধ্যমে অর্থ পাওয়ার দাবি শালিকা প্রধানের

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুজন ফিলিপাইন যাচ্ছেন আজ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুজন ফিলিপাইন যাচ্ছেন আজ

রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশের তদন্তদল সিআইডির কয়েকজন সদস্য। আজ শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তা ফিলিপাইনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। আর আগামীকাল রবিবার বা সোমবার সিআইডির সদস্যরা রওনা হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে রিজার্ভের দুই কোটি ডলার চুরি হয়ে শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশন নামে যে সংস্থার অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, কথিত সেই বেসরকারি সংস্থার প্রধান হ্যাগোডা গোমেজ শালিকা পেরেরা দাবি করেছেন, তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে ওই অর্থ তাঁর সংস্থার অ্যাকাউন্টে এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক আবদুর রউফ ও অ্যাকাউন্ট অ্যান্ট বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ডিজিএম জাকির হোসেন আজ ফিলিপাইনের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তাঁরা সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজের সঙ্গে মিলে সিনেট কমিটি ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দেওয়া-নেওয়া করবেন এবং সিনেট শুনানিতে অংশ নেবেন।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা যাওয়ার বিষয়ে এখনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জিও (আদেশ) এবং অর্থ ছাড় হলেই ওই দুই দেশের উদ্দেশে সিআইডি সদস্যরা রওনা দেবেন। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি। ’

তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল সিআইডির একটি দল ফিলিপাইনের উদ্দেশে রওনা দিতে পারে।

গতকাল ফিলিপাইনের সংবাদ সংস্থা র্যাপলার জানিয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ তাঁদের বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ৩ এপ্রিল ফিলিপাইন পৌঁছবেন। এরপর রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া সিআইডির সদস্যরা একই উদ্দেশে ৪ এপ্রিল সেখানে যাবেন।

রাষ্ট্রদূত র্যাপলারকে জানিয়েছেন, তদন্তের সমন্বয়ের কাজে প্রথমে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দেশটির এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) কার্যালয়ে যাবেন সিআইডি সদস্যরা। ক্যাসিনোতে যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে এএমএলসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন  তাঁরা। পাশাপাশি নিজস্ব তদন্ত কার্যক্রমও পরিচালনা করবে সিআইডি। চুরি যাওয়া অর্থ কিভাবে ফিলিপাইনে ঢুকল এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত—সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সিআইডি তদন্ত করবে। এ ছাড়া সিআইডি সদস্যরা মঙ্গলবার সিনেটের ব্লু রিবন কমিটিতে অনুষ্ঠেয় শুনানিতেও অংশ নেবেন।

বন্ধুর মাধ্যমে টাকা পাওয়ার দাবি শালিকা প্রধানের : বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশনের প্রধান পেরেরা দাবি করেছেন, শ্রীলঙ্কায় একটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণসহ কয়েকটি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার কাছ থেকে ওই অর্থ তাঁকে এনে দেওয়ার কথা বলেছিলেন এক বন্ধু। বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া টাকা থেকে ওই অর্থ আনা হয়েছিল কি না—সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই। গতকাল রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে জমা রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ‘হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে’ ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে গত ৫ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল ডয়চে ব্যাংকের হাত ঘুরে। তাদের সন্দেহের কারণেই শেষ পর্যন্ত শালিকার অ্যাকাউন্টের ওই অর্থ আটকে যায়। অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধে প্রাপকের জায়গায় ‘ফাউন্ডেশন’ বানান ভুল থাকায় ডয়চে ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। এর মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে, অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধটি ছিল ভুয়া। পরে এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হয়।

চুরি যাওয়া বাকি আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের চারটি হিসাবে জমা হয়। সেখান থেকে এই অর্থের একটি বড় অংশ জুয়ার টেবিল হয়ে পাচার হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা। এই পাচারের বিষয়ে দেশটির সিনেটের একটি দল তদন্ত করছে। সিনেটের ওই শুনানিতে সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনোর পরিচালক কিম অং পাচারের কিছু অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। বৃহস্পতিবার তিনি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের কাছে ফেরত দিয়েছেন।

এদিকে শ্রীলঙ্কার আদালত শালিকা ফাউন্ডেশনের ছয় পরিচালকের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এ ঘটনায় দেশটিতে মামলাও হয়েছে।

অর্থ চুরির ঘটনার পর এই প্রথমবারের মতো কথা বললেন শালিকা প্রধান। তিনি রয়টার্সকে বলেন, বন্ধুর কথামতো জাইকা থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে দুই কোটি ডলার আসবে, এটা তাঁর কাছে প্রত্যাশিত ছিল। তবে তিনি বলেন, জাইকার সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। পুরো বিষয়টি করে দিয়েছেন তাঁর এক ব্যবসায়ী বন্ধু, যাঁর সঙ্গে জাপানের ‘ভালো যোগাযোগ’ আছে।

তবে রয়টার্স জানিয়েছে, শালিকা প্রধান তাঁর বন্ধুর যে ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়েছেন, তা ব্যবহার করে তাঁর ওই বন্ধুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আর জাইকার মুখপাত্র নাওয়োকি নেমোতো বলেছেন, শালিকা ফাউন্ডেশন নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।


মন্তব্য