kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


উচ্ছেদের পর আবার দখল

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



উচ্ছেদের পর আবার দখল

নগর ভবনের দক্ষিণ পাশের রাস্তা ও ফুটপাতের এসব দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল ১৩ মার্চ। সাবেক অবস্থায় ফিরতে দেরি হয়নি দখলদারদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফুলবাড়িয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যালয় ‘নগর ভবন’-এর দক্ষিণ পাশে রাস্তা ও ফুটপাতের ওপর নির্মিত দুই শ অবৈধ দোকান গত ১৩ মার্চ উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যে জায়গা দখল হয়ে গেছে আবার।

উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে করপোরেশন যে সুনাম কুড়িয়েছিল তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। নগরপালের নাকের ডগায় এমন অবৈধ দখলের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সব অবৈধ দোকান বিক্রি করে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এর কথিত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানের সময় একাধিক ব্যবসায়ী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গত ১৩ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুস শোয়েব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালান। সে সময় ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ হোসাইনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উচ্ছেদের কয়েক দিন পরই দখলদাররা আবার জায়গা দখল করে। এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যেসব দোকান রাস্তা ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল সেগুলো আবার বসানো হয়েছে। কিছু দোকান ইট-বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আর কিছু দোকান ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

উচ্ছেদের পর আবার দোকান নিয়ে বসেছেন কেন জানতে চাইলে ফোন-ফ্যাক্স ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আড়াই ফুট প্রস্তের এক টুকরো জায়গা নিতে দিতে হয়েছে এক লাখ টাকা। আর মাসিক কিস্তি দিতে হয় তিন হাজার টাকা। দোকান না বসালে চলবে কেমন করে?

জাকের মার্কেটের সামনে কাপড়ের ব্যবসায়ী উমর আলী জানান, ৮ ফুট বাই ১০ ফুট একটি দোকান নিতে তাঁকে দিতে হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। আরো তিনটি দোকান দেখিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর জন্য দুই কোটি টাকা গুনতে হয়েছে। টাকা কে নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এর চেয়ারম্যান দেলু টাকা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল বলেন, ‘জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বিপুলসংখ্যক দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল। আমরা নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। এরপর আবারও সেখানে অবৈধ দোকান উঠেছে। খুব দ্রুত এগুলো উচ্ছেদ করব। ’

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, করপোরেশনের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এ তিনটি বিশাল ভবন রয়েছে। মার্কেটে করপোরেশন যেভাবে বলেছে বাস্তবে তাঁর চেয়ে অনেক বেশি দোকান তৈরি করা হয়েছে। দোকানপ্রতি ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। মার্কেটের সামনে রাস্তা-ফুটপাতের ওপরও দোকান করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এর ব্লক এ, বি, সি নামের তিনটি ভবনে তিল ধারণের জায়গা নেই। গলি, সিঁড়ির স্থান, লিফটের জায়গা, পার্কিং স্পেস, পেছনের অংশ, বাথরুমের জায়গায়ও দোকান বসানো হয়েছে। পুরো মার্কেটের নিয়ন্ত্রক দেলোয়ার হোসেন দেলু। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁকে ‘চেয়ারম্যান’ সম্বোধন করেন। দেলুর বিরুদ্ধে ডিএসসিসির তৈরি করা ২৮২টি দোকান দখলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে এক্সট্রা-১ থেকে ২০০ পর্যন্ত নাম্বার দিয়ে দোকান বানানো হয়েছে। প্রচুর চাহিদা থাকায় পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুট একটি দোকান ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় বরাদ্দ নিতে হয়েছে দোকানিদের।

ডিএসসিসির ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু। তবে তিনটি ভবনের জন্য আলাদা সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। পুরো মার্কেটে দেলুর একচ্ছত্র আধিপত্য। তাঁর ভয়ে নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মুখ খোলেন না।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দেলোয়ার হোসেন দেলুর ব্যক্তিগত ফোনে অনেকবার কল করা হয়; প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়।

 


মন্তব্য