kalerkantho


মহাসচিব হয়ে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফখরুল

ফুল খেলবার দিন নয় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ফুল খেলবার দিন নয় আজ

ফাইল ছবি

বিএনপির নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব। কাউন্সিলের পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তিনজন কর্মকর্তার নাম ঘোষণা করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘদিন পর কাউন্সিল হওয়ার পর এ নিয়ে নেতাকর্মীদের অনেক আবেগ-উচ্ছ্বাস আছে। নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উত্ফুল্ল হয়েছেন। অনেকেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নেতাকর্মীদের আবেগের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে উচ্ছ্বসিত হতে চাচ্ছি না। দুর্ভাগ্য, আজ ফুল খেলবার দিন নয়। ’

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়া মির্জা ফখরুল গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আসার পর দলের নেতাকর্মীরা মহাসচিবকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। পরে মির্জা ফখরুলকে তাঁর কক্ষে নেতাকর্মী ও অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সমস্ত প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে, সমস্ত নির্যাতন-নিপীড়ন বাদ দিয়ে আপনারা খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে অতি দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন, যেটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, সকলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে হবে, সকলের কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য হবে। ওই ধরনের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, তার অবসান করে বাংলাদেশকে আমরা আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ’

নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই মামলাটি মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই সময়ে দেশনেত্রী অবরুদ্ধ ছিলেন। তাঁর বাড়ির সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বাড়িতে খাবার পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি। উদ্দেশ্য একটাই—খালেদাকে হেয় করা, হয়রানি করা। পুলিশ যে চার্জশিটটা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—দেশনেত্রী খালেদা জিয়া পলাতক। উনি কখনোই পলাতক ছিলেন না। প্রতিদিন মিডিয়ায় আসছেন। তিনি বাসাতে থাকেন, অফিসে যান, কর্মসূচিতে যান। ’

অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এভাবে দমন-পীড়ন করে বেগম জিয়াকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। অতীতেও কোনো নির্যাতনের কাছে তিনি নতিস্বীকার করেননি। বিএনপির নেতাকর্মীরা নতিস্বীকার করবে না। কারণ আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি না। ’

‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে কি না’—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রয়োজন হলে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব। আর কর্মসূচি তো চলছেই। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই করছি, সেই লড়াইয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ সমগ্র দেশে ত্রাসের রাজত্ব চলছে। ’

কৃষক দল ও ঠাকুরগাঁও জেলার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি অতিরিক্ত দুই পদ ছেড়ে দিয়ে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন শুরু করব। দুই-এক দিনের মধ্যে তা দেখা যাবে। ”

এ সময় দলের নতুন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সিনিয়র নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, কাজী আসাদুজ্জামান, খায়রুল কবীর খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য