kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


এইচএসসি শুরু ৩ এপ্রিল

বেড়েছে পরীক্ষার্থী ও ঝরে পড়ার হার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



এইচএসসি শুরু ৩ এপ্রিল

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৩ এপ্রিল। এবার ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন পরীক্ষায় বসবে। গত বছরের তুলনায় এবার এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৪ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে। বেড়েছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ‘নকলমুক্ত’ পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় সহযোগিতা করলে আর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার নিবন্ধন হয় একাদশ শ্রেণিতে। তারপর টেস্ট পরীক্ষা শেষ করে পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না সবাই। নানা সমস্যার কারণে ঝরে যায়। এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমরা আস্তে আস্তে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছয় লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ এবং ছাত্রী পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৪ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থী ৯ লাখ ৬১ হাজার ৭০২, অনিয়মিত পরীক্ষার্থী দুই লাখ ৪৬ হাজার ৩৪১, প্রাইভেট পরীক্ষার্থী চার হাজার ২০২ এবং ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার্থী ছয় হাজার ৩৮৩ জন।

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এ হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৪ জন। এবার দুই হাজার ৪৫২টি কেন্দ্রে আট হাজার ৫৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে। গতবারের চেয়ে এবার ২২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৩৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে।

এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ২০ হাজার ১০৯ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৯১ হাজার ৫৯১, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি বিএম-এ এক লাখ দুই হাজার ১৩২ এবং ডিআইবিএসে চার হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষা দেবে বলে জানান নাহিদ। বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৬২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

১৯টি বিষয়ের ৩৬টি পত্রের পরীক্ষা এবার সৃজনশীল পদ্ধতিতে হবে। এইচএসসিতে ২০১২ সালে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হয়। গত বছর ১৩টি বিষয়ের ২৫টি পত্রের পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে হয়েছিল।

এসএসসির মতো এইচএসসিতেও এবার প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশের পরীক্ষা হবে। এ দুই পরীক্ষার মধ্যে ১০ মিনিট সময় রাখা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে। আর ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে সৃজনশীল অংশের পরীক্ষা। তবে ‘ট্রাডিশনাল’ বিষয়ের ক্ষেত্রে রচনামূলক পরীক্ষা ১০টায় শুরু হবে। বিকেলের পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

এবারও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক এবং ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপালসি আক্রান্ত) পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ৯ জুন হবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আর ১১ থেকে ২০ জুনের মধ্যে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ (দুইশত) গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ব্যতীত জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।

 


মন্তব্য