kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


স্বীকৃতি

আলো ছড়ানো নারী পুলিশ

এস এম আজাদ   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আলো ছড়ানো নারী পুলিশ

কর্মক্ষেত্রে আলো ছড়ানো নারী পুলিশ সদস্যদের গতকাল পুরস্কৃত করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পেশাদারি ও সাহসিকতার সঙ্গে দেশে-বিদেশে দায়িত্ব পালন করে সুনাম কুড়াচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা। দিন দিন বাড়ছে নারী পুলিশের সংখ্যা। তাঁদের অনেকে এখন বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবার পুলিশ সপ্তাহে প্যারেড পরিচালনা করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন এক নারী পুলিশ সদস্য। দেশের বাইরে শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েও নারী পুলিশ সদস্যরা সুনাম কুড়িয়েছেন। আর প্রথমবারের মতো সেই সব কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন পুলিশের ৩২ গর্বিত নারী সদস্য। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে কাজ করে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। পুরস্কার দেওয়া হয়েছে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতিকেও (পুনাক)।

এর মধ্য দিয়েই চালু হলো ‘বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড’।   গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা’র (আইসিসিবি) রাজদর্শন হলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আলো ছড়ানো নারী পুলিশ সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে এখন নারীদের কেবল দৃশ্যমান উপস্থিতিই নয়, সাফল্যও দেখছি। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নারী পুলিশ। ’ স্পিকার আরো বলেন, ‘পুলিশে আসতে নারীদের অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়। এ পেশায় যোগদান ও দায়িত্ব পালনে কর্মবান্ধব পরিবেশ কামনা করি, যেন নারীরা পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন। ’

বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নারীরা এখন হিমালয় জয় করছে। শিক্ষায় সমানতালে এগিয়েছে। পুলিশে যোগদান করে নারীরা মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে। শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশের দুটি ইউনিটের কাজের প্রশংসা আমি শুনেছি। ’

বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, ‘আমরা মনে করি নারীরা শারীরিকভাবে দুর্বল। তবে আমাদের পুলিশ বাহিনীর বোনরা সে ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। আমাদের এক বোন ভার উত্তোলনে প্রথম হয়েছেন। পুলিশ বাহিনীতে নারীর সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা জোরদার করতে হলে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একজন নারী এসআই প্রয়োজন। ’

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এ পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। ছয়টি বিভাগে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া নারী পুলিশ সদস্যরা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি করে ক্রেস্ট, একটি সনদপত্র ও ১০ হাজার করে টাকা।

আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত রাতে কালের কণ্ঠ’র কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চাঁদপুর মডেল থানার কনস্টেবল তাহমিনা আক্তার ‘পাঁচ বছর আগে পুলিশে যোগ দিই। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে এই পেশায় আসি। ধৈর্য ধরে কাজ করেছি। চোর, ডাকাত, আসামি ধরতে আমি অভিযানে যেতে পিছপা হতাম না। আর হয়তো তারই স্বীকৃতি পেলাম আজ। এই পুরস্কার আমাকে আরো ভালো কাজ করার প্রেরণা দেবে। ’ পেশাদারির কৃতিত্বের জন্য জীবনে প্রথমবারের মতো পেয়েছেন পুরস্কার।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশে নারীর সার্বিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নারী পুলিশ সদস্যরাও এগিয়ে চলেছেন। ১৯৭৪ সালে ছয়জন নারী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এ বাহিনীতে এডিশনাল আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত আট হাজার ৮২৪ নারী কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিস্টিকস) মিলি বিশ্বাস, এসবির এডিশনাল ডিআইজি ইয়াসমিন গফুর, নরসিংদীর এসপি আমেনা বেগম, এসবির এসএস (প্রটেকশন) ফরিদা ইয়াসমিন, চাঁদপুরের এসপি শামসুন্নাহার, ডিএমপির এডিসি (অর্থ) আবিদা সুলতানা, ডিএমপির এডিসি আসমা সিদ্দিকা মিলি ও ডিবির সিনিয়র এসি মাহমুদা আফরোজ লাকী।

মেডেল অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ডিএমপির এসি হোসনে আরা বেগম, সিএমপির সিনিয়র এসি মাহমুদা বেগম, র‌্যাব-৭-এর এএসপি শাহেদা সুলতানা, ঢাকার এএসপি (ফোর্স) মাকসুদা লিমা, সিএমপির পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার মর্জু, ডিএমপির কনস্টেবল মিতা রানী বিশ্বাস, চাঁদপুরের কনস্টেবল তাহমিনা আক্তার এবং এপিবিএন-১১-এর কনস্টেবল স্বপ্না আক্তার।

এক্সিলেন্স ইন অ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন এসবির সিনিয়র এসি মাকসুদা আকতার খানম, আরএমপির পরিদর্শক মোহতারেমা আশরাফী খানম, ডিএমপির এসআই কুইন আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসআই রাজিয়া বেগম, ডিএমপির এসআই মোছা. রেজিনা বেগম, ডিএমপির এএসআই নাসিমা আক্তার, এসবির কনস্টেবল তাসলিমা আক্তার ও কিশোরগঞ্জের কনস্টেবল তানজিনা মাসুদ।

কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এসপি শামীমা বেগম, সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার খন্দকার নূর রেজওয়ানা পারভীন ও ডিএমপির সিনিয়র এএসপি মেরিন সুলতানা।

পিসকিপিং মিশন স্পেশাল অনার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন হাইওয়ে রেঞ্জের এসপি শাহীনা আমীন, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সামসুন নাহার, ডিএমপির এডিসি আল বেলী আফিফা, এসবির এএসপি এলিজা শারমীন ও এসবির এসআই রেহানা পারভীন।

এ ছাড়া এন্টারপ্রেনার উইমেন অর্গানাইজেশন অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।


মন্তব্য