kalerkantho


ময়মনসিংহ

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট

মেহেদী হাসান ও নিয়ামুল কবীর সজল, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) থেকে   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট

 বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ৯ নম্বর ভাংনামারী ইউনিয়নের নাওভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। মধ্য দুপুরের রোদ উপেক্ষা করেই নারী-পুরুষের দীর্ঘ দুটি লাইন ভোটকেন্দ্রের মাঠ ছুঁয়ে পাশের বাড়ির উঠান পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ চলছে ধীরগতিতে। তবুও ভোটাররা বিরক্ত নন। উৎসবমুখর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ ভোটকেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে সর্বত্র। সার্বিক পরিবেশও শান্তিপূর্ণ। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের শুধু ভাংনামারীর এ কেন্দ্রটিই নয়, সব কেন্দ্রেই এমন উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়েছে। গুজবে গুঞ্জনে টুকটাক কিছু হৈ-হুল্লোড় হলেও সার্বিক বিবেচনায় ভোট ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য ভোটার, প্রার্থী, প্রশাসন—সবারই।

দলীয় বিদ্রোহী, প্রতীক নিয়ে নৌকায় রদবদল, প্রার্থীদের প্রভাব, পরিচিত ইত্যাদি সব কিছু মিলিয়ে এবার গৌরীপুরের ইউপি নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছিল বেশি। উপজেলা সদর থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বের এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এ জনপদের ভোট নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিল সবার মধ্যেই। চর এলাকা বলে নির্বাচনে সংঘাত নিয়ে এক ধরনের কুখ্যাতিও রয়েছে এ ইউনিয়নের। কিন্তু সব উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ককে উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ। শেষ বিকেলের বৃষ্টি ভোটারদের কিছুটা দুর্ভোগে ফেললেও একপর্যায়ে বৃষ্টিও হার মানে ভোটারদের উচ্ছ্বাসের কাছে।

সকালে ভাংনামারীর নাওভাঙ্গা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলে মাসুদ ও বিএনপির প্রার্থী আবুল কাশেম দুজনই উপস্থিত। দুজনেরই বাড়ি ভোটকেন্দ্রের পাশে। দুই প্রার্থীই ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের সরিয়ে দেন। কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হলে সেখানে এসে অবস্থান নেয় স্ট্রাইকিং ফোর্স। ফোর্সের উপস্থিতির পর পরিস্থিতি একেবারে ঠাণ্ডা। কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল আলী বলেন, ‘বুট ভালা অউক, যে খুশি পাস করুক। আমরা গণ্ডগোল চাই না’। আমেনা খাতুন নামের একজন গৃহিণী জানান, এলাকার লোকজন প্রার্থী হয়েছেন। তাই তিনি কষ্ট করে হলেও ভোট দিতে এসেছেন।

এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাদিরুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে দলবেঁধে আসছেন নারী-পুরুষরা। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষাও করছেন। কিন্তু এ নিয়ে কারো কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই। ’

নাপ্তের আলগী কেন্দ্রে গিয়েও উৎসবমুখর পরিবেশের দেখা মেলে। স্থানীয় লোকজন জানায়, এ কেন্দ্রটিতে প্রায় সব প্রার্থীই কমবেশি ভোট পাবেন। সবার কর্মী-সমর্থক আছে ভোটকেন্দ্রে এবং আশপাশে। কাশিয়ারচর কেন্দ্রে গিয়েও দেখা মেলে বিপুলসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি। সেখানেও নানা গুঞ্জন ছিল। কিন্তু সাংবাদিক এবং পুলিশের উপস্থিতির কারণে কোনো গুঞ্জনই শেষ পর্যন্ত আর সত্য হয়নি। তবে এখানে মহিলা ভোটারদের ভোট দিতে দেরি হচ্ছিল। হামিদুল ইসলাম নামের এলাকার একজন ভোটার বলেন, গ্রামের প্রায় সবাই ময়মনসিংহ শহরে থাকে। কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই গ্রামে এসেছে। তাই গ্রামে আজ উৎসবের আমেজ।

ভোলার আলগী চরের ভোটকেন্দ্রে স্বাভাবিক ভোটগ্রহণে বাধা হয়ে আসে বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজেই ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসেন। অনেক ভোটার কেন্দ্রের আশপাশের বাড়িতে অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই ভোট দিয়েছেন। ভোটার শফিক মিয়া বলেন, ‘ভোট আইছে। বৃষ্টি দেইখ্যা ভয় পাইলে অইবো। ’ কেমন ভোট হচ্ছে, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মানুষ অহন অনেক চালাক। কাইজ্যা-ঝগড়া কেউ চায় না। আর এইডা কইরা কোন লাভও নাই। ’

শুধু ভাংনামারী নয়, পুরো গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নেই নির্বাচন ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। গৌরীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ কে এম মুসা বলেন, উপজেলায় ৯৭টি ভোটকেন্দ্র ছিল। কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। ভোট নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। এখন নির্বাচন-পরবর্তী সময়টুকু সবার খেয়াল রাখতে হবে।


মন্তব্য