kalerkantho


সরকারের প্রতি খালেদার আহ্বান

সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে আসুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে আসুন

‘বল এখন শাসক দলের কোর্টে’—এ কথা উল্লেখ করে সরকারকে সংঘাত ছেড়ে আবারও সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে দেশের সংকট উত্তরণে আলেমসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের’ দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাশকতার একটি মামলায় গত বুধবার আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। সেই পরোয়ানা মাথায় নিয়েই গতকাল তিনি ২০ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) সম্মেলনে যোগ দেন।

লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের সংকট নিরসনে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। বল এখন শাসক দলের কোর্টে। তারা সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে এসে সমস্যার সমাধান করবে বলে আমি আশা করি। দেশের চরম সংকট উত্তরণে আমি আপনাদের এই সম্মেলন থেকে সম্মানিত আলেমসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। ’ তিনি বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, জনগণের সরকার নেই। সুশাসন নেই।

সমস্ত প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। সবখানে নৈরাজ্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সীমাহীন অবনতি ঘটেছে। জাতীয় অর্থনীতি ছত্রখান হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার ও ব্যাংকগুলো লুট হয়েছে। সাধারণ মানুষ রয়েছে সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায়। শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন ও বন্ধুহীন করে

ফেলা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম সম্প্রদায় নানাভাবে নিগৃহীত ও হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেতে চায়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই আমরা বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করেছি। কাউন্সিলের পর আমরা এখন দল পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত রয়েছি। কাউন্সিলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা আমি তুলে ধরেছি। এ সমস্যা ও সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথনির্দেশনাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি, যে অসুস্থ রাজনৈতিক ধারা এ দেশে চালু করা হয়েছে সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখাতে হবে নতুন সম্ভাবনার পথ। জাতির বিরাজমান সমস্যাবলি সমাধানের জন্য সুচিন্তিত ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখন একটি ভিশন ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করার কাজ করে যাচ্ছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এ দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আবহমানকাল থেকে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করে আসছে। সেই ঐতিহ্য ও গৌরব ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন সময় কায়েমি স্বার্থবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালিয়ে থাকে। আলেম সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে, যাতে আমাদের বদনাম না হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আপনারা সেই শান্তির ধর্মের নেতা। হিংসা, হানাহানি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান ইসলামে নেই। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু বিপথগামী লোক সন্ত্রাস, প্রতিহিংসা ও নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামের পবিত্র শিক্ষার আলোকে আপনারা শান্তির পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন, এই কাউন্সিলে আপনাদের প্রতি সেটাই আমার আহ্বান। দেশে শান্তি, সুশাসন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায়, আলেমসহ সবার সম্মান রক্ষায়, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায়, জুলুমের অবসানকল্পে আপনারা ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হোন। ’

ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকিবের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সভাপতি নূর হোসেন কাশেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) মহাসচিব আবদুল করিম খান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির (একাংশ) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি আবদুর রউফ ইউসূফী, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফজলুল হক জালালাবাদী, মাওলানা সৈকত আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

দর্শক সারিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, যুববিষষক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক প্রমুখ।


মন্তব্য