kalerkantho


পোনা শিকারি নারীকে তুলে নিয়ে গেছে কোস্ট গার্ড!

বরগুনা প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পায়রা নদীতে চিংড়ি পোনা (রেণু) আহরণকালে নারী ও শিশুদের বেধড়ক পিটুনি দিয়ে কোস্ট গার্ডের তুলে নিয়ে যাওয়া এক নারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার দুই নারী বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল সকালে তালতলী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তবে কোস্ট গার্ড দাবি করছে, এক নারীকে তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   আহত দুই নারী হলেন কদবানু (৪৫) ও জবেদা বেগম (৩৫)। আর নিখোঁজ ওই নারীর নাম আসমা বেগম (২৭)।   প্রত্যক্ষদর্শী সফিকুল ইসলাম রুবেল জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় পায়রা নদীতে নারী ও শিশুরা কারেন্ট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা শিকার করছিল। সেখানে হঠাৎ করেই ফকিরহাট  ক্যাম্পের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা এসে নারী-শিশুদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে কারেন্ট জাল ছিনিয়ে নিতে থাকে। এ সময় লাঠিপেটায় আহত কদবানু ও তাঁর ছেলে রাসেল নদীর পাড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে বিধবা জবেদা বেগম ও তাঁর বোনের মেয়ে আসমাকে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ট্রলারে তুলে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। পরে তেঁতুলবাড়িয়া থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নিদ্রার চর থেকে জবেদা বেগমকে উদ্ধার করা গেলেও রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আসমার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আহত জবেদা বেগম জানান, কোস্ট গার্ডের সদস্যরা তাঁকে ট্রলারে ওঠানোর পরে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরে তাঁকে নিদ্রার চরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বোনের মেয়ে আসমা কোথায় আছেন, তা তিনি বলতে পারছেন না। কোস্ট গার্ড ফকিরহাট ক্যাম্পের স্টেশন কমান্ডার শামীম আহমেদ জানান, তাঁরা অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করতে গেলে নারী ও শিশুরা তাঁদের আক্রমণ করে। এ সময় তাঁরা আত্মরক্ষার্থে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পাল্টা হামলা করেন।

তিনি আরো জানান, জবেদা বেগম জাল ফেরত নেওয়ার জন্য তাদের ট্রলারে উঠে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকে নিদ্রার চরে নামিয়ে দিয়েছেন। তবে আসমা বেগমকে তাঁদের ট্রলারে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করছেন কমান্ডার শামীম আহমেদ।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য সেলিম মিয়া জানান, তিনি দুই নারীকে কোস্ট গার্ডের ট্রলারে উঠিয়ে নিতে দেখেছেন। একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম মাতুব্বর জানান, তিনি কদবানু ও জবেদা বেগমকে আহত অবস্থায় প্রথমে তালতলী থানা ও পরে তালতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তালতলী থেকে ওই দুই নারীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তালতলী থানার ওসি বাবুল আক্তার জানান, থানায় আনার পরে আহত দুই নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়নি।


মন্তব্য