kalerkantho


এডিবির পূর্বাভাস

জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৭%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৭%

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ শান্ত, পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধিও ভালো এবং ব্যক্তি খাতের ভোগব্যয় ঊর্ধ্বমুখী—তাই চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ অর্জিত হবে বলে মনে করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে সংস্থাটি যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৩০ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকাস্থ এডিবি কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৬’ প্রতিবেদনে এডিবি আরো বলেছে, চলতি বছর মূল্যস্ফীতির হার ৬.২ শতাংশের মধ্যে থাকবে। যদিও  সরকার বাজেটে বলেছে, এ হার ৬.৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হবে। এডিবি এ-ও মনে করে, চলতি বছর শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাদের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে। তবে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসার পরিবেশ এবং বিনিয়োগের গতি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে অভিমত ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থাটির।

গতকাল ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৬’ প্রতিবেদন প্রকাশ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি কাজুহিকো হিগুইচি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক খাতে যেসব কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর উল্লেখ না করে পারভেজ ইমদাদ বলেন, দেশের আর্থিক খাতের মধ্যে বেশ গলদ রয়েছে। সেখানে দ্রুত শৃঙ্খলা আনা এবং এ খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেশ কয়েকটি নীতি-কৌশলে পরিবর্তন আনারও তাগিদ দেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বছর শেষে কিভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পারভেজ ইমদাদ বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি যা-ই থাকুক, বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনই সঠিক সময় জ্বালানি তেলের দাম কমানোর। এডিবিও মনে করে, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা যেতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে সে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির বিষয়ে পারভেজ ইমদাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই এখন কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।

এডিবি বলেছে, বেশ কয়েকটি নীতি-কৌশলে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। যার মধ্যে রয়েছে সঠিক সময়ে নতুন মূল্য সংযোজন (ভ্যাট) আইন কার্যকর, জমি রেকর্ড ও ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, রপ্তানির বাধা দূর, তেল-বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, এডিপি বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো। এগুলো নিশ্চিত করতে না পারলে অনেক লক্ষ্য অর্জনই কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করে এডিবি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি কাজুহিকো হিগুইচি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের সে সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব পিপিপি কার্যকর এবং সরকারি প্রকল্প বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়াতে পারলে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বাড়বে।

এডিবি মনে করে, মধ্য মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যার মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং বাণিজ্য সহায়তা বাড়ানো অন্যতম। মধ্য মেয়াদে উন্নয়নের জন্য শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটি মনে করে, বাংলাদেশে শিক্ষার গুণগত মান বেশ দুর্বল।


মন্তব্য