kalerkantho


প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে যমুনা গ্রুপের ব্যাখ্যা

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কালের কণ্ঠে গত ২৯ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ‘ভ্যাট ফাঁকি : যমুনা গ্রুপের কাছ থেকে ৭০০ কোটি টাকা আদায় করবে এনবিআর’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে যমুনা গ্রুপ।

গতকাল মঙ্গলবার পাঠানো এই ‘ব্যাখ্যা ও অবস্থানপত্রে’ যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রায় ১৬ বছর আগে যমুনা গ্রুপের ওই সময়কার সুনাম অর্জনকারী বিখ্যাত অ্যারোমেটিক কসমেটিক্সের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির দুটি অসত্য মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমত, একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে পৃথকভাবে দুটি মামলা দায়ের করায় ছিল প্রধান ত্রুটি। কেননা, যে সময়সীমা উল্লেখ করে অভিযোগ আনা হয়েছিল তাতে একটি মামলা করলে তা শুরুতেই টিকত না। এদিকে ব্যক্তিগত

আক্রোশে ২০০৩ সালে প্রভাবশালী একটি মহল হয়রানিমূলকভাবে এনবিআরের দায়ের করা অ্যারোমেটিকের ভুয়া মামলাটিকে বেছে নেয়। আর তাদের অদৃশ্য হস্তক্ষেপে একপর্যায়ে ওই বছরের শেষ দিকে মামলাটি এক দিনের মধ্যে শুনানি হয়েই একই দিন রায় হয়। রায় ভ্যাট কমিশনারের পক্ষে যায়। এরপর যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। কিন্তু মামলার অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না থাকায় শেষমেশ মামলাটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জয়লাভ করতে পারবে না বলে ওই মহল সে সময় এ নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করতে চায়নি। এরপর আসে বহুল আলোচিত ওয়ান-ইলেভেন সরকার। সে সময় কতভাবেই না ব্যবসায়ীদের হয়রানি হতে হয়েছে! কিন্তু বিভিন্ন পন্থায় তথ্য তালাশ করে যমুনা গ্রুপের বিরুদ্ধে কিছু না পেয়ে তারাও ক্ষান্ত হয়। আলোচ্য এই মামলা নিয়েও তারা পর্যালোচনা করে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যারোমেটিক কোম্পানির বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই মামলাটি কোনো ফল বয়ে আনবে না বলে সরকার শুনানি না করে ফেলে রাখে। সম্প্রতি আপিল বিভাগে শুনানি শেষে মামলাটির রায় হয়। কিন্তু রায়ের কপি এখনো প্রকাশিত হয়নি। অথচ রায় প্রকাশ হওয়ার আগেই এনবিআরের পক্ষ থেকে নিজেদের মতো করে দণ্ড কার্যকর করার ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা অপব্যাখ্যা এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি আদালত অবমাননার শামিল। কেননা, যমুনা গ্রুপের ওপর ক্ষুব্ধ এনবিআর ৭৩ কোটি টাকাকে ৭০০ কোটিতে রূপান্তর করেছে। ’

যমুনা গ্রুপের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এনবিআর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাসে ২% জরিমানার যে হিসাব কষা হয়েছে তা কোনো এক ভবিষ্যতের বিষয়। সব ধাপ শেষ করে যখন মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে এবং রায় এনবিআরের পক্ষে গেলে তখন এ রকম জরিমানা হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যদি অ্যারোমেটিক কসমেটিক্সকে এই জরিমানা দিতে হয় তাহলে প্রথমে আসবে কোম্পানিটির সামর্থ্যের বিষয়। এরপর সামর্থ্য থাকলে পরিশোধ করার প্রশ্ন আসবে মূল মামলায় যে ক্লেমটি করা হয়েছে সেই ৭৩ কোটি টাকার হিসেবে নিয়ে। সে রকম কোনো আইনগত সুযোগ এনবিআর ভবিষ্যতে যদি অর্জন করে তবে টাকা চেয়ে অ্যারোমেটিক কসমেটিক্স কোম্পানিকে ডিমান্ড নোট দিতে হবে। সেখানে টাকা পরিশোধের নির্ধারিত একটি সময়সীমার কথাও উল্লেখ থাকতে হবে। ওই সময়সীমার মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় ডিমান্ড নোটে আইন উল্লেখ করে মাসিক ২% জরিমানার কথা তুলে ধরতে হবে। এরপর আরো ধাপ আছে। ’

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান আরো বলেছেন, ‘আমার আইনজীবীর আইনগত ব্যাখ্যা ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নিজেও মনে করি, বাস্তবে এ মামলাটি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এর পরও আইনগতভাবে আমাদের অনেক ধাপ অতিক্রম করার সুযোগ রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মামলাটি যখন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে তখন রায় যমুনা গ্রুপের পক্ষেই আসবে এবং এনবিআরের ভ্যাট ফাঁকির এই দাবি অযৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হবে। ’


মন্তব্য