kalerkantho


শেরপুরে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

শেরপুর প্রতিনিধি   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শেরপুরে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

শিশু আরাফাত ইসলাম রাহাত হত্যা মামলার রায়ে তিন আসামির ফাঁসি ও এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সায়েদুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো আব্দুল লতিফ (২১), রবিন মিয়া (২০) ও আসলাম বাবু (২২)। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আসামি ইমরান হোসেনকে (২১)।

২০১৫ সালের ২ আগস্ট শহরের গৃর্দানারায়ণপুর মহল্লার কাঠ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খোকন মিয়ার একমাত্র ছেলে আরাফাত ইসলাম রাহাত (৮) অপহৃত হয়। সে শেরপুর বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তদন্তকালে বেরিয়ে আসে, রাহাতের খালু আব্দুল লতিফ দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে বন্ধুদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং শিশুকে শ্বাসরোধে

হত্যা করেছে। অপহরণের ছয় দিন পর মধুটিলা ইকো পার্কসংলগ্ন একটি পাহাড়ি টিলার জঙ্গল থেকে রাহাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আসামি লতিফ, আসলাম বাবু, রবিন মিয়া ও ইমরান হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে অপহরণ ও হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ চার আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল গত ৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন। এরপর ৯ কার্যদিবসে ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণশেষে গতকাল রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালত রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত চারজনই আদালতে উপস্থিত ছিল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাহাতের বাবা শহিদুল ইসলাম খোকন ও মা রিনা বেগম। বাবা বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ রায় কার্যকর করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের ঘটনা কমবে। ’

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। দ্রুত রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে। ’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র হোড় জানান, রায়ের কপি পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল লতিফ শেরপুর সদর উপজেলার বয়ড়া পরানপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তার বন্ধু রবিনের বাড়ি একই এলাকায়। তার বাবার নাম ফারুক মিয়া। আসামি আসলাম বাবুর বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ফুলকারচর মধ্যপাড়া গ্রামে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ইমরানের বাড়ি নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম নজরুল ইসলাম।


মন্তব্য