kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


৬৪২ ইউপিতে কাল ভোট

কাজী হাফিজ   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৬৪২ ইউপিতে কাল ভোট

ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৬৪২ ইউপিতে ভোট হতে যাচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধাপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর হতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ গতকাল বলেছেন, অপরাধ যে-ই করুক, কাউকে ছাড় নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে অপরাধ হবে, আর কেউ তা প্রতিরোধ না করে আঙুল চুষবে, তা হবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপের নির্বাচনে সহিংসতায় অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পাশাপাশি অনিয়মের কয়েক শ অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। এ প্রসঙ্গে শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘প্রথম ধাপে কিছু অনিয়ম পেয়েছি, ব্যবস্থাও নিয়েছি। এখন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলতে চাই—দায়সারা কাজ করে দায়িত্ব এড়াতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম করলে চরম ব্যবস্থা নিতে পিছপা না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। নির্বাহী হাকিম ও ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারের সব ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। তাঁরা যেকোনো বিষয়ে ইসিকে সরাসরি অবহিত করতে পারবেন। ’

এদিকে দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের ব্যাখ্যা পেতে আজ বুধবার সকালে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ও পাঁচ ওসির সঙ্গে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও কারচুপির ঘটনায় দ্বিতীয় ধাপে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত ভোটার ও প্রার্থীরা। প্রতিপক্ষের কেন্দ্র দখলের হুমকি-ধমকিসহ নানা অভিযোগ সরকারি দলের বাইরের প্রার্থীদের। নির্বাচন কমিশনে এসব অভিযোগের স্তূপ জমেছে। কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন ইউপি থেকে এবার বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।

এ ধাপে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রচারণা। ৬৪২ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে দুই হাজার ৬৮৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৬৪১টিতে আওয়ামী লীগ ও ৫৬৩টিতে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন। ৭৯ ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এ ছাড়া এক হাজার ১৭৭ জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাঁদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী। এদিকে ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতাসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, সম্ভাব্য এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় পৌনে দুই লাখ সদস্য মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে দেড় লাখ পুলিশ ও আনসার, ছয় হাজার কোস্টগার্ড সদস্য এবং র‌্যাবের আট হাজারের বেশি সদস্য রয়েছেন। উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা, ছিটমহলে অন্তর্ভুক্ত, উচ্চ আদালতে মামলা চলমানসহ নানা সমস্যার কারণে দ্বিতীয় ধাপে ৪১টি ইউপিতে ভোট হচ্ছে না।

 


মন্তব্য