kalerkantho


নাটোরে সিরিজ বোমা

জেএমবির পাঁচজনের যাবজ্জীবন

নাটোর প্রতিনিধি   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জেএমবির পাঁচজনের যাবজ্জীবন

নাটোরে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন হলো নওগাঁর কাদির মোড় ঈদগাহপাড়ার ফজলুল হকের ছেলে হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে নোমান, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খোলাবাড়িয়া গ্রামের ফজলার রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিঠু, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে শিহাব উদ্দিন শিহাব ওরফে হানজালা ওরফে আনজালা, একই জেলার বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আবদুল মতিন ওরফে ইসমাইল ও বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকযাদু এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে আবদুর রশিদ ওরফে আসিফ।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে শফিউল্লাহ ওরফে তারেক ও শহিদউল্লাহ ওরফে ফারুক নামের দুজনকে।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাত জেএমবি সদস্যের মধ্যে ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার কারণে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আটক জেএমবি নেতা শফিউল্লাহ ওরফে তারেককে আদালতে হাজির না করায় বিচারক তার অনুপস্থিতিতেই মামলার রায় দেন।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের মতো নাটোরের জজ আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ট্রেজারি, বাসস্ট্যান্ড, পেট্রল পাম্পসহ আটটি স্থানে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বোমা হামলা চালায়  জেএমবির সদস্যরা। বোমা বিস্ফোরণের স্থানে জেএমবির প্রচারপত্র পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ওই দিনই নাটোর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করেন। পরে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জেএমবি সদস্য শহীদুল্লাহ তারেক ওরফে তুষার বিপুল পরিমাল জিহাদবিষয়ক বই, প্রচারপত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তারই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে জেএমবির কথিত উত্তরাঞ্চলীয় অপারেশন হেডকোয়ার্টার নাটোরের মীরপাড়ায় খাদেমুল ইসলামের তিনতলা ভবনে অভিযান চালায় নাটোর ও রাজশাহীর পুলিশের একটি যৌথ দল।

কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্দুকযুদ্ধের পর কয়েকজন পালিয়ে গেলেও শিহাব, দেলোয়ার, হাফিজ ও মতিন ধরা পড়ে। এ সময় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আউয়ালসহ অন্যরা বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদবিষয়ক বই, মোবাইল ফোনসেট, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, বিস্ফোরকদ্রব্য, হিট লিস্ট উদ্ধার করে।

পরে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শিহাব, দেলোয়ার, হাফিজ ও মতিন নিজেদের জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য পরিচয় দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

তদন্ত শেষে তখনকার নাটোর থানার ওসি মতিউর রহমান এই চারজনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মোট ৬৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪২ জনের জবানবন্দি গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ২৮ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

রায়ের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর) আবদুল হাই বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে।

নাটোরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা ১১ বছর পর ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমেল খান চৌধুরী বলেন, ন্যায়বিচার না পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা।


মন্তব্য