kalerkantho


সুন্দরবনের একই স্থানে ফের আগুন তদন্তে কমিটি

জেলেদের দায়ী করছে বন বিভাগ

বাগেরহাট ও মংলা প্রতিনিধি   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনের একই স্থানে ফের আগুন তদন্তে কমিটি

গতকাল সুন্দরবনের কিছু অংশ আগুনে পুড়ে যায়। আগুন যাতে আর ছড়াতে না পারে সে জন্য বনকর্মীরা ১০ একরজুড়ে ফায়ার লাইন তৈরি করেন। ছবি : বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী

সুন্দরবন আবারও আগুনে পুড়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় বনের পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলি ক্যাম্প এলাকায় আগুন লাগে। প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে আগুন নেভানো হয়।

আগুনে আধা একর বনভূমি পুড়ে গেছে জানিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ স্থানে আগেও আগুন লেগেছিল। জেলেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দিয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। আগুনের এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বন বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে আগুনে সুন্দরবনের তেমন ক্ষতি হয়নি। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আগুনে আধা একরের মতো বনভূমি পুড়ে গেছে। ওই আগুনে লতাপাতা ও কিছু বলাগাছ পুড়ে গেছে। ওই এলাকায় এর আগে আগুনের ঘটনায় সেখানে কোনো সুন্দরীগাছ ছিল না বলে ডিএফও দাবি করেন।

ডিএফও জানান, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিভে যায়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

মোরেলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভক্তও তাৎক্ষণিক আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ জানান, রবিবার সন্ধ্যার দিকে তিনি খবর পান, নাংলি ক্যাম্পের আওতাধীন শিকদারবাড়ির ছিলা এলাকায় আগুন লেগেছে। তিনি তখনই বনকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য প্রায় ১০ একর এলাকাজুড়ে ফায়ার লাইন কাটা হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, আগুন লাগার পর রাতেই বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে দুর্গম পথ ও রাতের অন্ধকারে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

এ কর্মকর্তা  জানান, যেখানে আগুন লেগেছে সেখানে এর আগেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে সেখানে বড় ধরনের কোনো গাছপালা নেই। আছে শুধু বলা, লতাপাতা ও গুল্ম জাতীয় গাছপালা।

আগুন লাগার এ ঘটনা তদন্তে গতকাল চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করে দেন ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনের ওই এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জাল পেতে মাছ ধরার জন্য জেলেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি এমন তথ্য পেয়েছেন।

বনের পাশের উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৎস্যজীবী মো. খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ জেলেদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকেন। এতে করে জেলেরা সুন্দরবনে যত্রতত্র চলাফেরা করতে পারে। তবে বন বিভাগ জেলেদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ১৮ বার আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সব আগুনে প্রায় ৬০ একর বনভূমি পুড়ে গেছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন জানান, প্রায় প্রতিবছর এ মৌসুমে সুন্দরবনে আগুনের ঘটনা ঘটছে। সুন্দরবনে আগুন লাগলে তা সাধারণত নিচ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। সুন্দরবনে যাতে আগুনের ঘটনা না ঘটে এ জন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


মন্তব্য