kalerkantho


ভুয়া কাগজপত্রে ১৬ হাজার টন পণ্য ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে কাস্টমস থেকে ১৬ হাজার মেট্রিক টন ভোগ্যপণ্য ছাড় করানোর অভিযোগে এসএ অয়েলের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আদালতের নির্দেশে এখন মামলাটি তদন্ত করছেন ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কায়সার হামিদ।

এ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য কাস্টমস থেকে কারা কিভাবে ছাড় করেছে তা জানতে চেয়ে কাস্টমসের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০১৪ সালের এই পণ্যগুলো খালাসের সময় ভুয়া প্যাড ও সিল ব্যবহারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বলছে, কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা ভালোভাবে ব্যাংকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করলে এমন জালিয়াতি হতো না। তাই শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নয়, বরং কাস্টমস বিভাগের কেউ এতে জড়িত কি না তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ওসি মো. বশির আহমদ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু জানান, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে ১৬ হাজার ২৪৯ মেট্রিক টন সিপি অলিয়েন নামের তেল আমদানি করে এসএ অয়েল। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্যাড ও সিল জাল করে পণ্যগুলো কাস্টমসের মাধ্যমে ছাড় করিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ন্যাশনাল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক নিজাম আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নূরে আলম নিপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য ডবলমুরিং থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

মামলায় এসএ অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন আলম ও জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. দিদারুল আলমকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ওসি বশির আহমদ জানান, আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। এটা ২০১৪ সালের ঘটনা। তখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কোন কোন কর্মকর্তা কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পণ্য ছাড় করেছিলেন সেই বিষয়ে জানতে কাস্টসমের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মামলার আরজি অনুযায়ী, ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে ন্যাশনাল ব্যাংক আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা থেকে প্রতিটি ৬০ লাখ ডলার মূল্যের চারটি এলসি দুই কোটি ৪০ লাখ ডলারের অর্থাৎ প্রায় ১৮৭ কোটি টাকার এলসি খোলা হয়। এসব পণ্য নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরেও আসে। কিন্তু ব্যাংকের জাল প্যাড ব্যবহার করে সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে ১৬ হাজার ২৪৯ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বন্দর থেকে ছাড় করিয়ে নেওয়া হয়। অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক থেকে মূল ডকুমেন্ট না নিয়ে তাঁরা কাস্টমসে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নেন। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলের মধ্যে ১৬ হাজার ২৪৯ মেট্রিক টন পাননি ব্যাংক কর্মকর্তারা। পরে কাস্টমসে যোগাযোগের পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।


মন্তব্য