kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তারেকের বক্তব্য প্রচার

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে নামবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে নামবে বিএনপি

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে আইনি লড়াইয়ে নামবে দলটি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই করার পর কোনো সত্যতা না পাওয়ায় ইন্টারপোল রেড নোটিশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোল সদর দপ্তর তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সব তথ্য বাতিল করে দিয়েছে। ’

ফখরুল বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটা আসেনি। আমরা এবার চেষ্টা করব। ইন্টারপোলের এই ফাইন্ডিংসের পরে আমরা নতুন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাঁর বক্তব্য যাতে প্রচার করা যায়, সে বিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নেব। ’

২০১৪ সালে লন্ডনে কয়েকটি দলীয় সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তারেক রহমান। পরে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তারেকের বক্তব্য-বিবৃতি সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন হাইকোর্ট।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পুলিশ যেসব তথ্য পাঠায় ইন্টারপোল তার সত্যতা খুঁজে পায়নি। তিনি বলেন, ‘ইন্টারপোল তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই করার পর কোনো সত্যতা না পাওয়ায় এবং বিষয়টি তাদের আর্টিকেল ৩ ধারার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় রেড নোটিশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারপোল সদর দপ্তর তাঁর (তারেক) সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সব তথ্য বাতিল করে দিয়েছে। ’

এ অবস্থায় তারেক রহমানকে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে ‘হয়রানি না করার’ জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ফখরুল।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৪ মার্চ কমিশন ফর দ্য কন্ট্রোল অব ইন্টারপোলস ফাইলসের পক্ষ থেকে লন্ডনের লিগ্যাল ফার্ম ‘লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স’কে লিখিতভাবে রেড নোটিশ থেকে তারেক রহমানের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্রান্সে ইন্টারপোলের হেডকোয়ার্টার্সের কমিশন ফর কন্ট্রোল অব ইন্টাপোলস ফাইলসের এক বৈঠকে বলা হয়, তারেক রহমান সম্পর্কে প্রাপ্ত সব তথ্যপ্রমাণ এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থা ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনোভাবেই তাঁর নাম ইন্টারপোলে তালিকাভুক্ত হতে পারে না। এর পরই জেনারেল সেক্রেটারিয়েট তাঁদের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) তারেক রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া সব তথ্য মুছে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তাদের সব সার্ভার ও ডাটাবেইস থেকেও এই তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সমর্থক, সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে দিয়ে পুনঃতদন্ত করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারেক রহমানকে মামলার আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়। তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ কালিমালিপ্ত করতে গিয়ে এখন নিজেরাই (সরকার) মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়েছে। ’

তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এটা নির্ভর করবে তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর। তারেক রহমান সুস্থ হলে অবশ্যই তিনি দেশে ফিরে আসবেন। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

দুই মন্ত্রীর নৈতিক দায়িত্ব মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়া : সংবাদ সম্মেলন শেষে কিছুক্ষণ নিজ কক্ষে অফিস করেন ফখরুল। পরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, আদালতের রায়ের পর দুই মন্ত্রীর (খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক) মন্ত্রিত্বে থাকার আর প্রশ্নই আসে না। এখন তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব নিজ থেকেই মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়া। অন্যথায় প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক দায়িত্ব হবে মন্ত্রিসভা থেকে ওই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই মন্ত্রী সরকারে থাকবেন কি না সেটা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারকে কিভাবে দেখতে চান তার ওপর।


মন্তব্য