kalerkantho


রেমিট্যান্স লেনদেনের গোপন নম্বর হ্যাকড টাকা তোলার সময় গ্রেপ্তার একজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রেমিট্যান্স লেনদেনের গোপন নম্বর হ্যাকড টাকা তোলার সময় গ্রেপ্তার একজন

প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ লেনদেনের গোপন নম্বর হ্যাকিং করে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় নরসিংদীতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একইভাবে অন্য একটি ব্যাংক থেকেও তিনি টাকা তুলেছেন। তাঁকে গোপন নম্বর সরবরাহ করেছেন কুয়েত থেকে অন্য এক ব্যক্তি।

গতকাল রবিবার বিকেলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পলাশে পূবালী ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা পড়া এই ব্যক্তির নাম ফারুক মিয়া (৩০)। তিনি একই উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি যখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে তখন নম্বর হ্যাকিং করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ লেনদেনের গোপন নম্বর হ্যাকিং করছে। পরে অর্থ প্রাপকের জাতীয় পরিচয়পত্র নকল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে।

পলাশ পূবালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুয়েতপ্রবাসী সায়েম রমিজ উদ্দিন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁর ভাই আল আমিন মিয়ার নামে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। হ্যাকার চক্রের সদস্যরা লেনদেনের গোপন নম্বরটি হ্যাকিং করে জেনে ফেলে। হ্যাকারদের এক সদস্য ফারুক মিয়া গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন নম্বর ও নকল জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে পলাশ পূবালী ব্যাংকে টাকা তুলতে আসেন। টাকা দেওয়ার সময় পরিচয়পত্র দেখে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান ও জুয়েল মিয়ার সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা ব্যাংকে সংরক্ষিত আল আমিনের মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করে লেনদেন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান। এরপর ব্যাংকের কর্মকর্তারা আল আমিন নামধারী ফারুক মিয়াকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি দৌড়ে ব্যাংক থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ফারুক ধরা পড়ার পর নম্বর হ্যাকিং করে রেমিট্যান্সের টাকা চুরির আরেকটি ঘটনা জানা যায়। তিনি গত সপ্তাহে একইভাবে পলাশের অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানান শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমান।

এই ব্যাংক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত সোমবার ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক গ্রাহকের লেনদেনের গোপন নম্বর চুরি করে ভুয়া পরিচয়পত্রের মাধ্যমে আমাদের শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে নেন ফারুক। ’

কিভাবে নেন জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, ‘ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফারের সিস্টেম হলো, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পর সেখানকার ব্যাংক থেকে লেনদেনের একটি গোপন নম্বর (পাসওয়ার্ড) দেওয়া হয়। ব্যাংক কর্মকর্তা পাসওয়ার্ড, নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ওপর ভিত্তি করে টাকা দেন। হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড হ্যাকিং করার পর নকল পরিচয়পত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে টাকা নিতে আসেন। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করার কোনো পদ্ধতি ব্যাংকে নেই। তাই গোপন নম্বরের ওপর ভিত্তি করেই টাকা দেওয়া হয়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে হ্যাকাররা। ’

গ্রেপ্তারকৃত ফারুক পুলিশকে জানিয়েছেন, কুয়েত থেকে জুয়েল নামের এক হ্যাকার তাকে গোপন নম্বর সরবরাহ করেন। পরে সে নম্বর নিয়ে নকল পরিচয়পত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন।

পলাশ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আটককৃত ফারুক জালিয়াতির মাধ্যমে রেমিট্যান্সের টাকা উত্তোলনচক্রের একজন সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হ্যাকিং করে টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর কাছ থেকে একাধিক নকল জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


মন্তব্য