kalerkantho


মারামারির দায় ইসি নেবে না

দলীয় প্রতীক পেয়ে কিছু অতি উৎসাহী সন্ত্রাস করছে : শাহ নেওয়াজ

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মারামারির দায় ইসি নেবে না

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেছেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক পেয়ে কিছু ব্যক্তি অতি উৎসাহী হয়ে সন্ত্রাসী কাজ করছে। আগামী পর্বের নির্বাচনগুলোতে যাতে আর কোনো সহিংসতা না হয় সে জন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছি, নির্বাচনে কেউ অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ’

গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি শাহ নেওয়াজ এসব কথা বলেন।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ২৪ জন নিহত হওয়ার দায় কমিশন এড়াতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘কার ওপর দায় পড়ে এটা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। পাশাপাশি দুই বাড়ির কেউ মারামারি করলে তার দায় নির্বাচন কমিশনের নেওয়ার কোনো কারণ দেখি না। কেউ নিজস্ব এলাকায় মারামারি করলে তা নির্বাচন কমিশন প্রতিহত করতে পারে না। দেশে স্বাভাবিক অবস্থায় কিছু কিছু জায়গায় খুন-জখম হয়। তার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনের সময় হলেই খুন-জখম হয়। কিছু লোক বাড়াবাড়ি করবে, কিছু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচনে নিজেরা মারামারি করলে এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার কোনো কারণ সরাসরি আমি দেখি না। ’

শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন মূলত তৃণমূল নির্বাচন। যাঁরা নির্বাচন করেন তাঁরা সবাই বলতে গেলে একদম আপন লোক। তা ছাড়া তাঁদের দলাদলির প্রশ্ন থাকে, সম্মানের প্রশ্ন থাকে। আগেও আমাদের দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে। পাশের দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি কেন্দ্রে অনেক লোক মারা গেছে। যেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হবে, সেখানে যারা জড়িত তাদের যেন সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যেন চরম ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ’

ইসি শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘আমরা সব সময় আইনের পক্ষে থেকে নির্বাচন করার চেষ্টা করি। যেসব এলাকায় বিগত দিনে সহিংসতা বেশি ঘটেছে, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একটা এলাকায় (সাতক্ষীরা) বেশি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। ’ দলীয় প্রতীক পেয়ে কিছু ব্যক্তি অতি উৎসাহী হয়ে সন্ত্রাসী কাজ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   

দলীয় কাঠামোতে গ্রামীণ সমাজে নির্বাচন অনেকটা সমস্যা সৃষ্টি করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন দলীয় হবে নাকি নির্দলীয় হবে সেই আইন পার্লামেন্ট থেকে করা হয়। আমাদের দায়িত্ব্ আইনের বাস্তবায়ন করা। এবার নতুন আইনের আওতায় নির্বাচন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আমাদের তাড়াহুড়া করতে হয়েছে। আইন পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনেরও সময় এসে গেছে। আইনের আলোকে বিধি-উপবিধি তৈরি করতে হয়েছে। ’

ইউপি নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য নতুন কোনো দিকনির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যতটুকু শক্ত হওয়া দরকার, সব দিক দিয়ে তারা যেন সেটুকু শক্ত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সব বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রতি দেওয়া নির্দেশনা প্রতিপালনে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। ’

 


মন্তব্য