kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


গৃহবধূ ও দেবরপুত্রকে পিটিয়ে ন্যাড়া করে দিলেন চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গৃহবধূ ও দেবরপুত্রকে পিটিয়ে ন্যাড়া করে দিলেন চেয়ারম্যান

খালেদুল ইসলাম স্বপন

পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ এনে সালিস বসিয়ে এক গৃহবধূ ও তাঁর দেবরপুত্রকে লাঠিপেটা করার পর মাথার চুল ন্যাড়া করে দিয়েছেন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদুল ইসলাম স্বপন। তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের ছোট ভাই।

শনিবার মহান স্বাধীনতা দিবসে গলাচিপার গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান স্বপনসহ সাতজনকে আসামি করে নির্যাতনের শিকার রাঢ়ি বাড়ির গৃহবধূর স্বামী গলাচিপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন।

বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান খালেদুল ইসলাম স্বপনের নির্দেশে তাঁদের লোকজন তাঁর স্ত্রী ও চাচাতো ভাতিজাকে বাড়ি থেকে তুলে গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিয়ে যায়। তাঁদের সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে চৌকিদার সেলিম হাওলাদারের পাহারায় বসিয়ে রাখে। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান এ এম কুদ্দুস মিয়াসহ কয়েক শ লোকের সামনে শুরু হয় সালিস বৈঠক। সালিসে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান স্বপন ও কুদ্দুস তাঁর স্ত্রী ও ভাতিজাকে লাঠিপেটা এবং দুজনের মাথার চুল ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে ভাতিজাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এজাহারে বাদী বলেন, সালিসের সিদ্ধান্তের পর রাত ৮টার দিকে স্বপন চেয়ারম্যান তাঁর স্ত্রী ও ভাতিজাকে পরিষদের দক্ষিণ পাশের মাঠে নিয়ে নিজ হাতে বেদম লাঠিপেটা করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীর পরনের কাপড় খুলে গেলে তার ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিতোষ শীল নামের একজন নাপিতকে ডেকে এনে দুজনের মাথার চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিতোষ শীল বলেন, ‘আমি ওই দুজনের চুল কামাইতে (ন্যাড়া) চাই নাই, সালিসে আমারে বাধ্য করা অইছে। ’

মামলার সাত আসামি হলেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদুল ইসলাম স্বপন, বর্তমান চেয়ারম্যান এ এম কুদ্দুস, শামসুল হক ডাকুয়া, আশরাফুল ইসলাম টিপু, মো. নিজাম মাঝি, আব্দুল মান্নান মৌলভী ও নাসির উদ্দিন ফকির।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান খালেদুল ইসলাম স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

গলাচিপা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই দুজন গতকাল দুপুরে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ঘটনার পর পরই আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


মন্তব্য