kalerkantho


ইউএনও অফিসে বসে মনোনয়নপত্র বিলি এমপির!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউএনও অফিসে বসে মনোনয়নপত্র বিলি এমপির!

রাজশাহীর তানোরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ডেকে আলোচনা সভা করে মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি গত পৌর নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তানোরের সব স্কুল শিক্ষককে ডেকে সভা করেছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচনে গোদাগাড়ীতে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে উপজেলার সব প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের ডেকে সভা করেছিলেন।

আগামী ২৩ এপ্রিল তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তানোর উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান। এরপর তিনি একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ইউএনও মামুনুর রশিদকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে যান। সেখানে উপজেলার সাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের ডেকে নেন। এমপি-ইউএনও মিলে ওই প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাত প্রার্থীর হাতে দলীয় মনোনয়নপত্র তুলে দেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।  

ওই সাত চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন কলমা ইউনিয়নে লুত্ফর হায়দার ময়না, বাধাইড় ইউনিয়নে আতাউর রহমান, পাঁচন্দর ইউনিয়নে আবদুল মতিন, কামারগাঁ ইউনিয়নে মুসলেম উদ্দিন, তালোন্দ ইউনিয়নে আবুল কাশেম ও চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে মজিবর রহমান।

সূত্র জানায়, প্রথমে চেয়ারম্যান প্রার্থী লুত্ফর হায়দার ময়নার হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দিয়ে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী ফটোসেশন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও মামুনুর রশিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমরান আলী অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তানোর ইউএনওর কার্যালয়ে বসে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছেন। এটি তিনি করতে পারেন না। ওই সময় ইউএনও উপস্থিত ছিলেন বলে শুনেছি। যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। ’

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও মামুনুর রশিদ বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানে এসে এমপি মহোদয় আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। সেখানে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র দিয়েছেন কি না আমার জানা নেই। ’

বক্তব্য জানতে এমপি ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


মন্তব্য