kalerkantho


জমি দখল ও ভরাট

রূপগঞ্জে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘর্ষ আহত ১৫

আশালয় ও ঢাকা ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের সাইট অফিসে ভাঙচুর

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রূপগঞ্জে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘর্ষ আহত ১৫

জমি দখল করে ভরাট করার প্রতিবাদে আশালয় ও ঢাকা ভিলেজ নামের দুটি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় জনতা। ওই সময় কৃষকদের কাছে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে প্রকল্পের লোকজন তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাইট অফিস ভাঙচুর করে জনতা। প্রকল্পপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে; তাদের মধ্যে নারীও রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিতলগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে, চলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন ছাড়াই প্রায় আট বছর আগে পিতলগঞ্জে ঢাকা ভিলেজ ও আশালয় আবাসন প্রকল্প চালু করা হয়। প্রথমে কৃষকদের প্রলুব্ধ করে জমি ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। পরে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রভাবশালীরা কিছু জমি কিনে বালু ফেলে ভরাট করে।

এরপর শুরু হয় জবরদখল। দেখা গেল, পাঁচ বিঘা জমি কিনে ১০ বিঘা ভরাট করা হয়েছে। জবরদখল করা জমি পরে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। এভাবে গত আট বছরে স্থানীয় কৃষকদের শতাধিক বিঘা জমি দখল করে ভরাট করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কৃষক জুলহাস মিয়ার ৩০ শতাংশ, মোফাজ্জল হোসেনের ২৫ শতাংশ, মিজান মিয়ার ৪৫ শতাংশ, আক্তার হোসেনের সাত বিঘা, মোয়াজ্জেম আলীর ২০ শতাংশ, ইসমাইল মিয়ার দুই বিঘা, রফিক মেম্বারের ১২ শতাংশ, আফাজ উদ্দিনের ৪৫ শতাংশ, রাজিব মিয়ার ৩০ শতাংশ জমি দখল করা হয়েছে। আরো অনেক কৃষকের জমি দখল করে ভরাট করা হয়েছে। ওয়ারিশের জমিও দখল করা হয়েছে। কৃষকরা জমিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নানা কায়দায় তাদের হয়রানিও করা হয়েছে। আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুরে জমির মালিকদের পক্ষে স্থানীয় জনতা মিছিল নিয়ে আশালয় ও ঢাকা ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের সাইট অফিসে যায় এবং দখল করা জমি ফেরত দিতে বলে। কিন্তু প্রকল্পের লোকজন তাদের এবং জমির মালিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অফিস ভাঙচুর শুরু করে। প্রকল্পের লোকজনও হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

দুই থেকে আড়াই শ লোক বিক্ষোভে অংশ নেয়। প্রথমে তারা আশালয় আবাসন প্রকল্পের সাইট অফিসে যায়। কাছেই ঢাকা ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের সাইট অফিস। পরে তারা সেখানে যায়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। তাদের কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন সুমন, মরণচান, আমেনা, রফিক মিয়া, আক্তার হোসেন, আয়েশা আক্তার, লাকি আক্তার, তানিয়া আক্তার ও সফি মিয়া। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

আশালয় আবাসন প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক (সুপারভাইজার) আতিকুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা অফিসের সাতটি কক্ষ ও দুটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করেছে এবং অনেক কাগজপত্র নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, জমি দখল করে ভরাটের অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ঢাকা ভিলেজের কাউকে পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আর অভিযোগ আসেনি। কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।


মন্তব্য