kalerkantho


রিজার্ভের অর্থ চুরি

তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

♦ সিস্টেমে গলদ ছিল—দাবি সুইফটের
♦ ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি দাবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যানশিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফট সিস্টেমের কোনো গলদ ছিল না বলে দাবি করেছে সুইফট কর্তৃপক্ষ। তবে চুরির এই ঘটনা তদন্ত এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চলমান তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।

সুইফট হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রযুক্তিনির্ভর একটি মাধ্যম। সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এর সদস্য। এক দেশ থেকে অন্য দেশে সুইফটের মাধ্যমে  অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকে। এ জন্য সুইফট প্রত্যেকটি সদস্যকে একটি নির্দিষ্ট কোড ও সিস্টেম ব্যবহারের জন্য গোপন নম্বর (পিন) দিয়ে থাকে।

বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে সুইফট বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে থাকা ১০ কোটি ডলার ফিলিপাইন এবং শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকের বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর হয়।

এই ঘটনায় নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অন্য কারো দায় ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   

এর মধ্যেই সম্প্রতি সুইফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গোটফ্রেইড লেব্র্যান্ডট এক চিঠিতে বাংলাদেশে তাদের সদস্যদের বলেছেন, তাদের সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সুইফট মেম্বার অ্যান্ড ইউজার গ্রুপ অব বাংলাদেশের মহাসচিব ও এসআইবিএল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম এম ফরহাদের কাছে চিঠিটি এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘আমরা আপনাদের জানাচ্ছি যে এই ঘটনায় সুইফট কোর মেসেজিং সার্ভিসের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি এবং স্বাভাবিকভাবেই এটা কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নেটওয়ার্কের কোনো গলদের কারণে এটা হয়েছে, এমন কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি। ’

সুইফট তার নিরাপত্তা আরো উন্নত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের ঝুঁকি, সেবা ও সিস্টেমের বিষয়ে ব্যাপক সতর্ক করে চিঠিতে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি প্রতিরোধে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।  

তবে গ্রাহকের নিজস্ব নেটওয়ার্ক সিস্টেমের সেট আপ, ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির দায়িত্ব ব্যাংককেই নিতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি সুইফটের দুজন প্রতিনিধি বাংলাদেশ ব্যাংক ঘুরে গেছেন। তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, তদন্তকারী সংস্থাগুলো ও বাংলাদেশের সুইফট ইউজার গ্রুপের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি : রিজার্ভ চুরির চলমান তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। তবে এ ‘অগ্রগতি’ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় প্রশ্নের জবাবে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘তদন্ত চলমান। তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না। তবে অগ্রগতি আছে এবং যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। ’

আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে শুভঙ্কর সাহা আরো বলেন, ‘আইনানুগ বিষয়গুলোকে মূল্যায়ন করার জন্য আমাদের তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ’

চলছে সিআইডির তদন্ত : সিআইডির বিশেষ সুপার (সংগঠিত অপরাধ) মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার আসল রহস্য জানার চেষ্টা চলছে। যাকেই সন্দেহ করা হচ্ছে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে নেই। এ ছাড়া তদন্ত এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতনদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।  

সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্তকারীরা টিম ফরেক্স রিভার্জ সার্ভারের শত শত স্ক্রিন শট (ইমেজ) সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা অন্তত ৬০টি কম্পিউটারের ডাটা ক্লোন করেছেন। এগুলোর মধ্যে ১০ টেরাবাইট ডাটা আছে। বিভিন্ন শাখায় স্থাপন করা ২০০ সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এক তদন্তকারী কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা গত আড়াই মাসে রিজার্ভ স্থানান্তর সংক্রান্ত ডাটা খুঁজে দেখছেন।

ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি রবিবার : আগামী রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন যোগ্য প্রার্থীরা।

গতকাল বিকেলে এই পদে নিয়োগে সরকার গঠিত সার্চ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান কমিটির প্রধান ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় গত ১৫ মার্চ গভর্নরের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ড. আতিউর রহমান। এর পরপরই ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই ঘটনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিব আসলাম আলমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরই ডেপুটি গভর্নরের শূন্য পদে কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়।


মন্তব্য