kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


স্বাধীনতা পদক প্রদান

প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা গুণীদেরও সম্মান জানাব : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা গুণীদেরও সম্মান জানাব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৬ সালের স্বাধীনতা পদক তুলে দেন ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। ছবি : বাসস

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা গুণীদের তুলে এনে সরকার সম্মান জানাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘গ্রামবাংলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনেকেই আছেন, যাঁদের খবর কেউ জানে না। তবে আমরা চাই যে যেখানে সামাজিক উন্নয়নে বা দেশের সাহিত্য জগতে বা সাংস্কৃতিক জগতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন—আমরা যেন তাঁদের সম্মান করতে পারি। ’ তিনি বলেন, ‘সেই তথ্য আমাদের জানা থাকা একান্তভাবেই দরকার। কাজেই আমি আশা করি আগামীতে সেই তথ্য পাব এবং তাঁদের আমরা সম্মানিত করতে পারব। ’ গতকাল সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁদের আমরা সম্মাননা দিতে চাই এ কারণেই যে—দেশের জন্য তাঁরা যে অবদান রাখলেন, জাতির জন্য অবদান রাখলেন, জাতির জন্য একটা পথিকৃৎ সৃষ্টি করে গেলেন, আমরা সেই স্বীকৃতিটা দিয়ে যেতে চাই। যেন তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ দেশের মানুষ আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারে। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তারা যেন বিশেষ অবদান রাখতে পারে-সেটাই আমার কামনা। ’

অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদক ২০১৬-তে ভূষিত করেন। সাতজন মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক বিজয়ীর পক্ষে তাঁদের সহধর্মিণী, সন্তান এবং পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কাজ করার সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কাজ করতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ ত্যাগকারী ও মুক্তিযুদ্ধকালে বিদেশে জনমত সংগঠনের জন্য সংগঠক হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এম ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, সফল রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী মৌলভী আজমত আলী খান (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধকালীন দেশের বিমানবাহিনীর প্রথম ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’-এর সক্রিয় সদস্য, দেশের বিমানবাহিনী গঠন প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালনকারী এফ-৬ সুপারসনিক বিমানের পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম বীর-উত্তম। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে রাজশাহী পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হামলার প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনী গঠনকারী রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার শহীদ শাহ আবদুল মজিদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে নেতৃত্বদানকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণকারী রাঙামাটির মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলী (মরণোত্তর), বাংলাদেশের সংবিধান লিপিবদ্ধকারী ও লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পাকিস্তান পক্ষ ত্যাগকারী বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী এ কে এম আবদুর রউফ (মরণোত্তর), ১৯৭১ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগকারী ও দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশন প্রতিষ্ঠাকারী কে এম শিহাব উদ্দিন (মরণোত্তর) এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সৈয়দ হাসান ইমাম। আরো রয়েছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য রফিকুল ইসলাম (মরণোত্তর) ও আবদুস সালাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তোষা ও স্থানীয় জাতের পাটের জেনোম সিকুয়েন্স এবং উদ্ভিদের ক্ষতিকর ছত্রাক ম্যাক্রোফমিনা ফ্যাসিওলিনার জীবন রহস্য আবিষ্কারের জন্য কৃষি গবেষক অধ্যাপক মাকসুদুল আলম (মরণোত্তর) এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রাফি খান (এম আর খান)।

সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কাজের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কবি নির্মলেন্দু গুণ এবং রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও গবেষক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের সমুদ্রসীমার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় নিরলস প্রয়াস চালানোর জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রী ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি পদক, তিন লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেন।

নৌবাহিনীর পক্ষে বাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং অন্যরা নিজ নিজ পুরস্কার গ্রহণ করেন। মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে মরহুম মৌলভী আজমত আলী খানের পক্ষে তাঁর ছেলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, শহীদ শাহ আবদুল মজিদের পক্ষে তাঁর ছেলে মামুন মাহমুদ শাহ, শহীদ এম আবদুল আলীর পক্ষে তাঁর মেয়ে নাজমা আক্তার লিলি, মরহুম এ কে এম আবদুর রউফের পক্ষে তাঁর স্ত্রী শাহানারা রউফ, মরহুম কে এম শিহাব উদ্দিনের পক্ষে তাঁর ভাই ডা. কে এম ফরিদউদ্দিন, মরহুম রফিকুল ইসলামের পক্ষে তাঁর স্ত্রী দিলরাজ বুলি ইসলাম এবং মরহুম অধ্যাপক মাকসুদুল আলমের পক্ষে তাঁর স্ত্রী রাফিয়া হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পদকপ্রাপ্তদের সাইটেশন পাঠ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সরকারের সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠনের কর্মকর্তাসহ দেশের সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পদকপ্রাপ্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অপনারা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা সম্মাননা পেলেন আমি আশা করি আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে আগামী প্রজন্ম। সে জন্য আগামী দিনেও সেভাবেই কাজ করবেন। ’ সূত্র : বাসস।


মন্তব্য