kalerkantho


শিশু সুরক্ষায় জরুরি নিরাপদ পানির ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিশু সুরক্ষায় জরুরি নিরাপদ পানির ব্যবস্থা

বিশ্বে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় দুই হাজার শিশু ডায়রিয়াজনিত রোগে মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮০০ শিশুর মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী দূষিত পানি, স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা এবং অপ্রতুল স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা। বাংলাদেশে প্রতিবছর শিশুসহ ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়াজনিত রোগে মারা যায়। এ দেশে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ মারাত্মক দূষিত পানি ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের দেওয়া এমন উদ্বেগজনক তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যবিদরাও একমত। তথ্যানুসারে নিরাপদ পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরাজনিত রোগ ও আর্সেনিকোসিস বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ডায়রিয়া বা কলেরার প্রকোপ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখি, তেমনি অতিবর্ষণ ও বন্যার প্রভাবেও একই পরিণতি দেখতে পাই। কারণ এমন পরিস্থিতিতে পানি দূষিত হয়ে পড়ে বেশিমাত্রায়। আর প্রধানত দূষিত পানির কারণেই ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ডায়রিয়া-কলেরা ছাড়াও টাইফয়েড, জন্ডিস, চর্ম রোগসহ আরো বেশ কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে পানি দূষণের কারণেই। এ ক্ষেত্রে নিরাপদ পানির কোনো বিকল্প নেই। জীবন বাঁচাতে প্রতিটি পরিবারেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘ডায়রিয়া’ নামের আড়ালে এখনো বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে আছে ‘কলেরা’। বেসরকারি তথ্য মতে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ গুরুতর বা সাধারণ মাত্রার কলেরার জীবাণুতে আক্রান্ত হয়। কলেরায় আক্রান্তদের মধ্যে গড়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ রোগী থাকে শিশু। প্রধানত অনিরাপদ পানির কারণেই ‘কলেরা’ দূর করা দুরূহ। শিশুরা এ পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি শিকার হয়ে থাকে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা জানান, আগে কেবল বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরই ডায়রিয়া দেখা দিত। এ ছাড়া বেশি গরমেও ডায়রিয়ার প্রকোপ ছিল। তবে এখন ডায়রিয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় সীমাবদ্ধ নেই। এর মূল কারণ বিশুদ্ধ পানির অভাব। পানি দূষণের কারণেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যখন-তখন দেখা দেয় ডায়রিয়ার প্রকোপ। এ ক্ষেত্রে আগে সাধারণত নিম্ন আয়ের ও অসচেতন পরিবারের মানুষই বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে, কিন্তু এখন সব শ্রেণির মানুষই নিরাপদ পানির অভাবে এমন রোগের কবলে পড়ে। এ ক্ষেত্রে দেশের বাজারে এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইউনিলিভারের পিওরইট ফিল্টারের মতো বিশ্বমানের যন্ত্র, যা ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই খাবার পানিকে নিরাপদ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শহরের শিক্ষিত ও সচেতন পরিবারে আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি পিওরইট ব্যবহার শুরু  হয়েছে। ফলে এমন পরিবারে পানিবাহিত রোগের মাত্রা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় প্রতিটি পরিবারেই এ ধরনের যন্ত্র রাখা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


মন্তব্য