kalerkantho


ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা

মামলা, আটক ৮, পুলিশের সন্দেহের কেন্দ্রে জঙ্গিরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কুড়িগ্রাম শহরে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হামলার ধরন দেখে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার বিষয়টিকেই তদন্তে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

সদর থানার ওসি জমির উদ্দিন জানান, নিহত হোসেন আলীর ছেলে রাহুল আমিন আজাদ বাদী হয়ে গতকাল ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। বিভিন্ন দিক সামনে রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), টাস্কফোর্স অব ইন্টারোগেশন ইউনিট (টিএফআর), কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা এলাকা পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন।

এদিকে তদন্ত ও আলোচনায় ঘুরেফিরে হোসেন আলীর এক ভাড়াটিয়ার নাম সামনে আসছে। ছেলে রাহুল আমিন আজাদ বলেন, ‘আমি ছেলেটির মোবাইল নম্বর চাইলেও সে দেয়নি। পরে বাবাকে দিলে আমি নম্বরটি সেভ করে রাখি।

কিন্তু বাবা খুন হওয়ার পর নম্বরটি পাওয়া যাচ্ছে না। নম্বরটি বাংলালিংকের। শেষে ৪৪ আছে। ’

হোসেন আলীর মেয়ে নাসিমা বলেন, ‘আমাদের কারো সঙ্গে ভাড়াটিয়া ওই যুবকের পরিচয় ছিল না। বাবা সরল বিশ্বাসে তাকে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন মাসিক মাত্র এক হাজার টাকায়। শনিবার সে বলে গেছে মঙ্গলবার স্ত্রীসহ আসবে। সে আর আসেনি। আমাদের সবার সন্দেহ ওই যুবকটির সঙ্গে খুনিচক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে। ’

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। তবে এখনো বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হামলার ধরন দেখে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সে জন্যই বিষয়টিকে তদন্তে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  

মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শহরের শহীদ মিনার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মানববন্ধনে অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও যোগ দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা এ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে হোসেন আলী হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারিতে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য দিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।


মন্তব্য