kalerkantho

বুধবার । ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ । ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আলোচনা সভায় ফখরুল

ইউপি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বক্তব্য বাস্তবতাবর্জিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউপি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বক্তব্য বাস্তবতাবর্জিত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত মঙ্গলবার প্রথম দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বহু লোক।

জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, হামলা-মামলার মতো ঘটনা তো আছেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন তুমুল সহিংসতার পরও অথর্ব নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে যে এই নির্বাচন সুন্দর হয়েছে, যা বাস্তবতাবর্জিত।

গতকাল বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে যুব জাগপার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় ফখরুল বক্তব্য দেন। এ সময় ইউপি নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। ফখরুল বলেন, আজও পত্রিকায় দেখলাম সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তুমুল সহিংসতা হয়েছে। অতীতে পৌরসভা, উপজেলা নির্বাচনেও একই ঘটনা ঘটেছে। এর পরও সিইসি বলছেন যে খুব সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই।

এত ভালো নির্বাচন আগে কখনো হয়নি—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনির এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, এই সরকারের আমলে টাকা চরমভাবে হরিলুট হয়েছে। বাকি ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ব্যাংকেরও টাকা লোপাট হয়েছে। ওই ঘটনার দুই দিন না যেতেই জনতা ব্যাংক থেকে আবার টাকা লুট হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?

জোট সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক দেশ গড়ে তুলতে হলে, দেশে পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। ২০ দলীয় জোট জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। আমাদের দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ’

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার দেশের সব গণতান্ত্রিক কাঠামো একে একে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। সংসদ ধ্বংস করেছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য সত্যিকার অর্থে একটা নিরপেক্ষ প্রশাসন দরকার। সেই প্রশাসনও দলীয় করে ফেলা হয়েছে। কোনো ইনস্টিটিউশন আর অবশিষ্ট নেই। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে না পারলে দেশের স্বাধীনতার সফলতা আসবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে ভিশন-২০৩০ রূপরেখা দিয়েছেন, তাতে মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলেছেন। যুদ্ধ, মারামারি, রক্তপাত, গ্রেপ্তার, হত্যা আর কত দিন? এই প্রতিহিংসার রাজনীতি করে আমাদের লাভ কী হচ্ছে? এর অবসান হতে হবে। ’

যুব জাগপার সভাপতি ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপি সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান, যুব জাগপার সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মন্তব্য