kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নিম্নমানের ফিল্টারে বাজার ভরা কোটি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নিম্নমানের ফিল্টারে বাজার ভরা কোটি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

নিরাপদ পানি পান করবেন—এ আশায় রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ চলতি বছরের গোড়ার দিকে এলিফ্যান্ট রোড থেকে একটি ফিল্টার কেনেন। ফিল্টার বিক্রেতা তখন বলেছিলেন, এ ফিল্টারে ফোটানো পানি দেওয়ার প্রযোজন নেই।

সরাসরি সরবরাহ করা পানি ফিল্টারে দিলে সেখান থেকে পাওয়া যাবে পরিশোধিত পানি। তাদের কথামতো ফিল্টারটি ব্যবহার করায় প্রথম সপ্তাহেই সাব্বির আহমেদের পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হয় পানিবাহিত রোগে। দোনকানদারের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার মেলেনি। চীন থেকে আমদানি করা ওই ফিল্টার সাব্বির আহমেদ ফেলে দিয়েছেন। সাব্বির আহমেদের মতো অনেকেই এ রকম মানহীন ফিল্টার কিনে ঠকেছেন। নিম্নমানের এসব ফিল্টার কিনে অর্থ গচ্ছা তো যাচ্ছেই, উল্টো পানিবাহিত রোগবালাই বাধিয়ে ফেলছেন।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট, ঢাকা নিউ মার্কেটসহ রাজধানীর একাধিক মার্কেট ও দোকান ঘুরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফিল্টার দেখা গেছে। যেসব দোকানে এসব ফিল্টার বিক্রি হচ্ছে তারা বলছে, ফিল্টারগুলো আমদানি করা হয়েছে কোরিয়া, জাপান, চীন, তাইওয়ান, মালেশিয়া—এমনকি আমদানির তালিকায় আছে ইন্দোনেশিয়াও। এসব ফিল্টার আদৌ পানি পরিশোধনের ক্ষমতা রাখে কি না তা যাচাইয়ে দেশে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নেই। দেশের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’ (বিএসটিআই) শুধু পণ্যেরই মান নিয়ন্ত্রণ করে, যন্ত্রের নয়। তাই এসব ফিল্টার আমদানি ও কেনাবেচায় বিএসটিআইয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই। ফলে মানহীন কথিত বিদেশি ফিল্টারে ভরে গেছে বাজার।

জানা গেছে, বিএসটিআই ফিল্টার যন্ত্রের মান নিয়ন্ত্রণ না করলেও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) কাছ থেকে এ যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সনদ নিতে পারে। তবে এটির বাধ্যবাধকতা নেই। নিজের ইচ্ছায় কোনো কম্পানি চাইলে তাদের ফিল্টারের মান বিসিএসআইআরের কাছ থেকে পরীক্ষা করে সনদ নিতে পারে। দেশে একমাত্র সনদ নিয়েছে ইউনিলিভারের পিউরিফায়ার, যার নাম ‘পিওরইট’। এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বিসিএসআইআরের কাছ থেকে তাদের ফিল্টার পরীক্ষা করে সনদ নেয়নি। বিসিএসআইআর ছাড়াও পানি পরিশোধন যন্ত্র পিওরইটের মান ডিআরআইসিএম (ডেজিগনেটেড রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট) কর্তৃক যাচাইকৃত।

ওয়াসার পানি বোতলে ভরে ফিল্টার বলা হচ্ছে : ঢাকাসহ সারা দেশে এখন ফিল্টার পানির রমরমা ব্যবসা। এ পানি ব্যবসায়ীদের নেই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন। সারা দেশে ১১৩টি পানি কম্পানির অনুমতি আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ১৫০টির ওপর অবৈধ পানির কারখানা সিলগালা করেছে।

জানা গেছে, ফিল্টারের পানি শুধু রাস্তার টং ঘরের চায়ের দোকানেই নয়, অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে দেশের বেসরকারি বড় বড় প্রতিষ্ঠানও কিনে থাকে। তবে অধিকাংশ পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসার পানি ট্যাপ থেকে সরাসরি জারে ভরে থাকে। ফলে নামে ফিল্টার্ড বা পরিশোধিত পানি হলেও বাস্তবে এসব পানিতে থাকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু।

মহাখালী পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের খাদ্য পরীক্ষাগার, আইসিডিডিআরবি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও বিএসটিআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিকবার নানা পরীক্ষা করে তারা দেখেছে, একটি-দুটি ছাড়া বাজারে সরবরাহকৃত জারের পানির ৯৮ শতাংশই অনিরাপদ।


মন্তব্য