kalerkantho


জট খুলেছে, শিক্ষক নিয়োগ শুরু এপ্রিলের শেষে

শরীফুল আলম সুমন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জট খুলেছে, শিক্ষক নিয়োগ শুরু এপ্রিলের শেষে

প্রায় পাঁচ মাস এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ-প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। অবশেষে সেই জট খুলেছে, আগামী এপ্রিলের শেষ ভাগে এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে এনটিআরসিএ। এ জন্য একটি সফটওয়্যারও বানানো হয়েছে। তাতে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা যাচাই করতে এপ্রিলের শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি স্কুলে নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এরপর সব ঠিক থাকলে পুরোপুরিভাবে শুরু হবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া। নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এনটিআরসিএ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব থাকবে শুধু নিয়োগপত্র ইস্যু করা।

অভিযোগ রয়েছে, আগে এমপিওভুক্ত স্কুলে নিয়োগ পেতে পরিচালনা কমিটিকে পাঁচ-সাত লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো একজন প্রার্থীকে। কিন্তু এখন এনটিআরসিকে আবেদন ফি বাবদ মাত্র ১৮০ টাকা দিতে হবে। চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার আগে কারো সঙ্গে প্রার্থীর দেখা হওয়ারও সুযোগ থাকছে না।

আর প্রথম থেকে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সবাই এ নিয়োগে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, এবার পুরো নিয়োগ-প্রক্রিয়াই বদলে যাচ্ছে। শুধু পরিচালনা কমিটির ক্ষমতাই খর্ব নয়, নিয়োগ-প্রক্রিয়ার পুরোটা সম্পন্ন করা হবে অনলাইনে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে। টেলিটক বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই সফটওয়্যারের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এমনকি স্কুলগুলোর কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করতে হবে না। শুধু এনটিআরসিএ-কে তাদের চাহিদা জানাতে হবে। এনটিআরসিএ শিক্ষক চূড়ান্ত করে তাঁদের পাঠিয়ে দেবে স্কুলে।

জানা যায়, কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক লাগবে এর একটি চাহিদা দেবে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে বিভিন্ন চাকরিদাতা সাইটের মতো একটি লিংক থাকবে। কোন স্কুলে কতজন শিক্ষক লাগবে, সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ। আর অনলাইনে আবেদনের একটি সময়সীমাও দেওয়া থাকবে। হাতে হাতে আবেদন করার কোনো সুযোগই থাকবে না। প্রার্থীরা তাঁদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবেন। এই আবেদনের জন্য টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে ১৮০ টাকা ফি দিতে হবে প্রার্থীদের।

এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথকভাবে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে। এরই মধ্যে দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর পুরনোদের নিয়ে প্রাপ্ত নম্বর ক্রমের আরেকটি তালিকা তৈরির কাজ শেষ করেছে তারা। প্রথমে যে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নেওয়া হবে সেই উপজেলার প্রার্থী খোঁজা হবে। এ ক্ষেত্রে দুই তালিকার প্রার্থীই পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হবে। আর নম্বর একই হলে যে বিষয়ের শিক্ষক নেওয়া হবে সে বিষয়ে যিনি বেশি নম্বর পেয়েছেন তাঁকে নির্বাচিত করা হবে। তাও এক হলে ঐচ্ছিক বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হবে। উপজেলা থেকে প্রার্থী পাওয়া না গেলে জেলা পর্যায়ে, এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায় থেকে প্রার্থী খোঁজা হবে। প্রার্থী নির্বাচন করার পর সনদ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ প্রতিটি পদের জন্য নির্বাচিত একজন করে প্রার্থীদের ডাকবেন। সব ঠিক থাকলে এনটিআরসিএ নির্বাচিত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। পরিচালনা কমিটি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেবে।  

অনলাইনে এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু করতে গত রবিবার সচিবালয়ে টেলিটকের সঙ্গে চুক্তি সই করে এনটিআরসিএ। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের উপস্থিতিতে চুক্তি সই হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এপ্রিল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অনলাইনে এনটিআরসিএ বরাবর আবেদন করবেন। নিবন্ধনের ফলাফলের মেধাতালিকার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি কেবল নিয়োগপত্র ইস্যু করবে। আশা করব এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতা পেশায় এগিয়ে আসবেন। ’

নাম প্রকাশ না করে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘অনলাইনে নিয়োগ শুরুর জন্য আমাদের সফটওয়্যার তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরীক্ষামূলকভাবে এপ্রিলের শুরুতে এই নিয়োগ শুরু হতে পারে। সফটওয়্যারে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য আমাদের আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের শুরু থেকে পুরোপুরি নিয়োগ শুরু হতে পারে। ’

পুরনোদের নিয়োগের ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে যাঁরা নিবন্ধনে উত্তীর্ণ তাঁদের সনদে কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। তাঁরা এই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রথম তিন বছর আবেদনের সুযোগ পাবেন। তার পরও তাঁরা সুযোগ পাবেন কি না এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। ’


মন্তব্য