kalerkantho


তেঁতুলিয়া ও হাকিমপুর

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বস্তির ভোট

আপেল মাহমুদ ও সাইফুল আলম বাবু   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বস্তির ভোট

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘাত-সহিংসতা হয়েছে। তবে এর আঁচ লাগেনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায়। এ দুই উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে ভোটাররা। অধিকাংশ কেন্দ্রে দুপুরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। কেবল নিয়ম রক্ষার খাতিরে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বুথগুলো খোলা রাখা হয়।

দুপুরে তেঁতুলিয়ার দেবনগর ইউনিয়নের ভজনপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র ও ভজনপুর ইউনিয়নের আলহাজ ডালিম উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রসা কেন্দ্রে গিয়ে দুই-চারজন নারী ভোটার ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। পুরুষ ভোটারদের বুথগুলো ছিল একেবারেই ফাঁকা। জানা গেল, তারা আগেভাগেই ভোট দিয়ে চলে গেছে।

ভোটের আগে আলহাজ ডালিম উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রসা কেন্দ্রটি ভজনপুর ইউনিয়নের একমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে গতকাল এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মতিউর রহমান জানান, পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ভোটার ছিল এক হাজার ৪৮ জন। দুপুর ২টার মধ্যেই ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

নির্বিঘ্ন পরিবেশের কারণে সব বয়সী ভোটাররাই এসেছিল আলহাজ ডালিম উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। তাদের মধ্যে ছিলেন শতবর্ষী মেহেরনও।   তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর নাতবউ এতিবন। এতিবন বলেন, ‘ওইতানে কোলাত করে, ভ্যানত চড়ায় ভোট দিবা আনিছু। মোর কোলাত করেই যায় ওয় ভোট দিল। ’

ভজনপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, সকাল ৮টা থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন তৈরি হয়। দুপুর দেড়টার মধ্যে ৭০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়ে।

তেঁতুলিয়া, তীরনই হাট ও বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব ইউনিয়নে দুপুরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে যায়।  

তেঁতুলিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ কালের কণ্ঠকে বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি।

নির্বাচন কমিশন থেকে তেঁতুলিয়ায় ১৪টি কেন্দ্রেকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিহিত করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবেই ভোট হয়েছে। ভোটার ও প্রার্থীরা বলেন, তেঁতুলিয়ায় ভোটগ্রহণের সময় অতীতেও কখনো সহিংসতা হয়নি। সীমান্তবর্তী এলাকাটি বিজিবি পরিবেষ্টিত থাকে। তাই এখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে পার পাওয়ারও সুযোগ নেই।

তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ভজনপুর ইউনিয়নের আলহাজ ডালিম উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ছিল ভোটার, প্রার্থী ও ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের মধ্যে।

ভোটের আগে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সরেজমিনে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে সেটি ভোটগ্রহণের জন্য উপযোগী নয় বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেওয়ান মো. সারওয়ার জাহান জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের সিন্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রটি সুবিধাজনক কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, ভোট নেওয়া হয়েছে সেই ‘উপযোগী নয়’ কেন্দ্রটিতেই। ফলে ভোটার, প্রার্থী ও ভোটের দায়িত্ব নিয়োজিতরা বিপাকে পড়েন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীর অভাবে এক যুগ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কেন্দ্রটিতে বাথরুম ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। কক্ষগুলোর দরজা-জানালা বলতে কিছুই নেই।

তবে কেন্দ্রের এই অব্যবস্থাপনা সত্ত্বেও ভোটে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। এ নিয়ে সন্তোষ দেখা দেখা গেল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

তেঁতুলিয়ার মতো সীমান্তের আরেক উপজেলা হাকিমপুরেও গতকাল শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। সেখানেও দুপুরের পরপরই ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। খট্টা মাধবপুর ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নির্বাচনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আলীহাট ও বোয়ালধার ইউনিয়নেও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হয়েছে।  

তিন ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরা ছিলেন। তাঁরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

আলীহাট ইউনিয়নের হরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মনসাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হচ্ছে। র‌্যাবের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স বিজিবিও টহল দিচ্ছে।

ভোটার শিরিন আকতার জানান, নিজের পছন্দের প্রতীক ও প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। কেউ কোনো জবরদস্তি করেনি।  


মন্তব্য