kalerkantho


চট্টগ্রামে এক ব্যক্তির রক্তে জিকা ভাইরাস

‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামে এক ব্যক্তির রক্তে জিকা ভাইরাস

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির রক্তে জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে, বয়স ৬৭ বছর।

গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রস্তুতি সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ আছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ভালো আছে। জিকা ভাইরাস প্রাণঘাতী কোনো রোগ নয়। এটা চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যায়। তবে গর্ভবতী নারী আক্রান্ত হলে বাচ্চার সমস্যা দেখা দেয়।

এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকীও বলেন, ‘এ ভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির (পুরুষ) রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে জিকা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি পুরোপুরি সুস্থ আছেন। ’

চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে জিকা ভাইরাস সারা বিশ্বেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দুই আমেরিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। সন্দেহ করা হয় এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসটির কারণে অস্বাভাবিক ছোট মাথার শিশু জন্ম নেয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত লোকও রয়েছে। তবে এর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। বর্ষা মৌসুমে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে যাতে কেউ মারা না যায় সে বিষয়ে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব। ’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের  কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিকা ভাইরাসের এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করা যায়নি। গবেষকরা বলছেন, কার্যকর একটি প্রতিষেধক তৈরিতে খুব বেশি সময় লাগবে না, কিন্তু দীর্ঘ সময় লেগে যাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র পেতে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন বলেন, ‘জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। বিশ্বে এই রোগে কেউ মারা যায়নি। এর লক্ষণ ডেঙ্গুর মতো। জিকা ভাইরাসের বাহক এডিস মশা। এ মশা দিনের বেলায় বিশেষ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় কামড়ায়। তাই মশার বংশ বিস্তারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। ’

তিনি জানান, জিকা ভাইরাসের সংক্রমণে হালকা জ্বর, চোখের প্রদাহ ও মাথা ব্যথা দেখা দিলেও ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এর সংক্রমণে কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী মারা যায় না, হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।

এদিকে আগামী রবিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের সব সিভিল সার্জন এবং ওই দুই বিভাগের পরিচালককে (স্বাস্থ্য) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডাকা হয়েছে। ওই দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চট্টগ্রামে জিকা ভাইরাস শনাক্ত নিয়ে পরবর্তী করণীয় ও দিকনির্দেশনা প্রদান করার কথা রয়েছে।


মন্তব্য