kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সিলেট

বিপুল উৎসাহে ভোট নারীদের

পার্থ সারথি দাস ও ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট থেকে   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিপুল উৎসাহে ভোট নারীদের

সিলেট শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় হেঁটে কেন্দ্রগুলোর দিকে ছুটছিলেন নারী-পুরুষরা। স্কুল-কলেজ বন্ধ। মেজরটিলা বাজারেও লোকজন নেই। উৎসবের আবহের মধ্যেই ছুটছিলেন এই গ্রাম, ওই গ্রামের ভোটাররা। মেজরটিলা বাজারের পাশে দেবপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে এই কেন্দ্রে যাওয়ার আগে দূর থেকেই দেখা গেল, অসংখ্য নারী ভোটার দুই সারিতে অপেক্ষায়। নতুন নারী ভোটার থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার চোখে-মুখেই উৎসাহ-উদ্দীপনা। ইসলামপুর থেকে ১০১ বছর বয়সী চন্দ্রাবতী ছেলের কোলে করে ভোট দিতে এসেছিলেন। জিজ্ঞাসা করতেই হেসে বললেন, ‘ভোট দিমু। ’

সিলেট সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার ৯৫টি ভোটকেন্দ্রের সব কটিতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটার ছিলেন বেশি।

সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের পাশেই খাদিমনগর ইউনিয়ন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ইউনিয়নের পাঁচটি চা বাগানের শ্রমিকরা ট্রাক্টরে করে কেন্দ্রগুলোতে যান। অন্য কোনো পরিবহন না থাকায় দূরের কেন্দ্রে যেতে বাগানের চা পাতা পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা ট্রাক্টরের ব্যবস্থা করা হয়। চা শ্রমিক বিলাসী বাড়ই বরজান চা বাগান কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন অন্যদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভুট দিতে হইবে। ঘুম থেকে ভোরেই উঠছি। ’

টুলটিকর ইউনিয়নের মুক্তিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর পৌনে ১২টায় ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উপচে পড়া। ভোট দিতে এসেছিলেন ১০২ বছর বয়সী রিয়াজ উদ্দিন। পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারেন না বলে তাঁকে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছিল হুইলচেয়ারে করে। তাঁর পাশে থাকা অন্য ভোটার রফিক মিয়া বললেন, ‘ইবার তাইন ভুট দিবা, তান খুব ভালা লাগের। ’

সিলেট মহানগর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরত্বে টুকেরবাজার ইউনিয়নের শাহ খুররম কলেজ ভোটকেন্দ্রে দুপুরে গিয়ে দেখা গেল ১২টি বুথের সামনেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি। মা-বাবার হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে তাঁদের শিশুসন্তানরাও এসেছিল। সব মিলিয়ে ভোটকেন্দ্রে ছিল উৎসবের আমেজ। কেন্দ্রে ঢোকার আগে কথা হলো স্থানীয় ব্যবসায়ী জমির মিয়ার সঙ্গে। বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে তিনি পরিচিতদের কাছে শেষ মুহূর্তে ভোট চাইছিলেন। ভোটগ্রহণ ঠিকমতো চলছে কি না জানতে চাইলে জমির বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট চলছে। কেন্দ্র পরিদর্শন করে ফেরার পথে নারী সদস্য পদপ্রার্থী শিউলি পারভীন বলেন, ‘আমার প্রতীক হেলিকপ্টার। পাঁচটি কেন্দ্রে ঘুরেছি, কোথাও সমস্যা হচ্ছে না। ’

কেন্দ্রে ঢোকার আগেই চোখে পড়ল চারটি সারিতে অপেক্ষায় নারী ভোটাররা। নোয়া খুররম খলা থেকে সকাল ৮টায় উপস্থিত হয়ে দুপুর ১টায়ও অপেক্ষায় ছিলেন সিরাজল বিবি। প্রায় ৫০০ মিটার দূরের নজিরের গাঁও থেকে আসা রিজিয়া বেগম বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। ’ কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তখন ৭০ শতাংশ নারী ভোটারই ভোট দিয়েছেন।

মোগলগাঁও ইউনিয়নের মোগলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৯৫০ জন ভোট দিয়েছেন। দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার সাদেকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, এক হাজার ৮৯০ জন ভোটারের মধ্যে ৯৫০ জন ভোট দিয়েছেন। সকাল ৮টায় ভোট নেওয়া শুরু হয়েছিল। তিনি জানান, এখানে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি ভোট দিয়েছেন। ভোর থেকেই নারীরা ভিড় করেছেন কেন্দ্রের পাশে। এটা অভূতপূর্ব।

পাশেই কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট চলছিল। চামাউড়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে নৌকার এজেন্ট হাসিনা আক্তারের সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে বেশ কিছু সময় তর্ক-বিতর্ক চলে। তবে ভোটগ্রহণ চলছিল। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোদাব্বির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখানে ভোটার এক হাজার ২৪৭ জন। তার মধ্যে ৮০০ ভোট পড়েছে দুপুর ২টার মধ্যে। এই কেন্দ্রে সারিতে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন নারী ভোটার। বোরকা পরা আসমা বেগম জানান, চামাউড়া গ্রাম থেকে সকালে এসেছেন। ৩০০ নম্বর সিরিয়ালের ভোটার ভোট দিয়ে চলে গেছেন। তিনি স্লিপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর পাশে দাঁড়ানো আঙ্গুরা বেগম অনুযোগ করেন, ধীরগতির কারণে সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি। তবে প্রিসাইডিং অফিসার মোদাব্বির হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মমাফিক ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোট কক্ষে গিয়ে জানা গেল, চামাউড়া গ্রামের মোট ভোটার ৯২৬ জন। তার মধ্যে নারী ভোটার ৪৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে তখন পর্যন্ত ৩১৪ জন ভোট দিয়েছেন।

নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর এজেন্ট হাসিনা আক্তার বলেন, এবার নারীদের অংশগ্রহণ দেখার মতো।


মন্তব্য