kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মিয়ানমারের মন্ত্রিপরিষদে সু চি!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মিয়ানমারের মন্ত্রিপরিষদে সু চি!

মিয়ানমারের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াও নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের জন্য যে ১৫ জনের নাম প্রস্তাব করেছেন, তার প্রথমেই রয়েছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সু চির নাম। পররাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তো বটেই, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মন্ত্রী পদেও তাঁর নাম রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৫ জনের নাম প্রস্তাব করেন সু চির বন্ধু তিন কিয়াও।

এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে সু চির চারটি মন্ত্রিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে সু চি একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা পরিষদে জায়গা করে নেবেন, যেখানে এখনো শক্তিশালী অবস্থানে থাকা সেনাবাহিনীর প্রভাব রয়েছে। এছাড়া বরাবরের মতো স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয় পার্লামেন্টের সেনা সদস্যদের হাতেই থাকছে।

তবে মিয়ানমারের জটিল রাজনৈতিক নীতিমালা অনুসারে মন্ত্রিত্ব গ্রহণের বিনিময়ে সু চিকে পার্লামেন্টের সদস্য পদ ও একই সঙ্গে নিজ দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) প্রধানের পদ ছাড়তে হবে। দুই সন্তান বিদেশি নাগরিক হওয়ায় মিয়ানমারের সংবিধানের ধারা অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি সু চি।

নতুন সরকারে নারী মন্ত্রী হিসেবে একমাত্র সু চির নাম রাখা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় সু চির দল এনএলডি থেকে মাত্র ছয়জন মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন। বাকি মন্ত্রণালয়গুলো পাচ্ছেন অন্য দলের পার্লামেন্ট সদস্যরা।

গতকালের আগ পর্যন্ত মিয়ানমারে তো বটেই, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সু চির আসন্ন ভূমিকা প্রসঙ্গে বলা হচ্ছিল, সরাসরি সরকারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন না সু চি। তিনি বরং এনএলডি প্রধানের পদে থেকে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবেন, যেমনটা করেছেন ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। নিজে বিদেশি নাগরিক হওয়ায় বিরোধীদের আপত্তির মুখে সোনিয়া কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী হননি। কিন্তু তিনি কংগ্রেস প্রধান হিসেবে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।

খোদ এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতারা গত পরশু পর্যন্ত সু চির ভূমিকা সোনিয়ার মতো হবে বলে আভাস দিলেও শেষমেশ তাঁর মন্ত্রিত্বের কথা জানা গেল। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য