kalerkantho


জনতা ব্যাংকের আত্মসাৎ করা দুই কোটি টাকার মধ্যে উদ্ধার এক কোটি ৫৯ লাখ

এক কর্মকর্তা বরখাস্ত, মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এক কর্মকর্তা বরখাস্ত, মামলা দায়ের

জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের নিজস্ব হিসাব থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলাও করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম রাজীবুল হাসান। তিনি দিলকুশার স্থানীয় কার্যালয়ে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে দীর্ঘদিন ধরে এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট বা স্থায়ী আমানতপত্র) অনুবিভাগে কাজ করছেন। অনেক আগে থেকেই ভুয়া ভাউচার দিয়ে টাকা তুলছিলেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

জনতা ব্যাংক জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৯০ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে জড়িত কর্মকর্তার কাছ থেকে এক কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা গেছে। বাকি টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি অগ্রিম চেকসহ তাঁর স্ত্রীর নামে রায়ের বাজারে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটের মূল দলিল ব্যাংকের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হয়েছে। গত রবিবার এ ঘটনা ব্যাংকের এমডির ভিজিল্যান্স বিভাগের নজরে এলেও টাকা উদ্ধারের জন্য মামলা করা হয় গতকাল।

জানা গেছে, ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে ভাউচারে গরমিল থেকে।

আর তা মিলিয়ে দেখতেই বেরিয়ে আসে এফডিআরের নামে ভাউচার দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা। এরপর গত সোমবার রাজীবুল হাসানের ধানমণ্ডির বাসায় গিয়ে বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সেখানে টাকা পাওয়া যায় ৭৮ লাখ। আর ওই কর্মকর্তা যে ডেস্কে বসতেন সেখানকার ড্রয়ারে পাওয়া গেছে আরো ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তাঁর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা ও উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবেও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। অবশ্য আরো কোনো ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্ট আছে কি না সে বিষয়ে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের শাখা ব্যবস্থাপক ড. ফরজ আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় ব্যাংকের কোনো গ্রাহকের আমানত হিসাব থেকে কোনো অর্থ আত্মসাৎ হয়নি। আমাদের শাখার নিজস্ব হিসাব থেকে ভাউচারের মাধ্যমে টাকা চুরি হয়েছিল। হিসাব-নিকাশ করে সঠিকভাবে ডেবিট-ক্রেডিট সমন্বয় করা হয়েছে। ’

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সতর্কতাসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া আরো কোনো আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়েছে কি না তা ব্যাংকের ভিজিল্যান্স বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ কর্তৃক আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, রাজীবুল হাসানের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানায়। তিনি পাঁচ বছর আগে জনতা ব্যাংকে যোগদান করেন।

এদিকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কয়েকজন আমানতকারী স্থানীয় কার্যালয়ে আসেন তাঁদের জমা করা এফডিআরের খোঁজ নিতে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, গ্রাহকদের হিসাব থেকে কোনো অর্থ খোয়া যায়নি।

মতিঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, এই ঘটনায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা (এফএজিএম) আলী আশরাফ সিদ্দিকি বাদী হয়ে ব্যাংকের এক কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই ব্যাংকের কর্মকর্তা রাজীবুল হাসানকেই আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত (গতকাল রাত সাড়ে ৭টা) আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আসামিকে আমাদের হেফাজতে দিলে সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করা হবে।


মন্তব্য