kalerkantho


জাতীয় খতিব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জঙ্গিবাদ দমনে ইমামদের সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিবাদ দমনে ইমামদের সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পবিত্র কোরআন শরিফ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

পবিত্র কোরআন পড়ে মানুষ যেন সত্যিকারের ধর্ম সম্পর্কে জানে, সে শিক্ষা দেওয়ার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে, তারা যেন জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের পথ পরিহার করে এবং ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে। সবাই যার যার মতো ধর্ম-কর্ম করবে, এ শিক্ষা যেন মানুষ পায়। তিনি জঙ্গিবাদ দমনে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় খতিব সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল জলিল। খতিবদের পক্ষে বক্তব্য দেন জাতীয় খতিব কাউন্সিলের আহ্বায়ক জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব মাওলানা জালালুদ্দিন আল কাদরী। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামিম মোহাম্মদ আফজাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যাবলি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রিপরিষদ ও সংসদ সদস্যরা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আলেম সমাজের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার কষ্ট হয় কখনো কখনো জঙ্গিবাদ নাম নিয়ে যখন ইসলাম ও জঙ্গিবাদকে এক করে ফেলা হয়।

মুষ্টিমেয় লোকের জন্য আমাদের এত বড় দুর্নাম বয়ে বেড়াতে হয়। কাজেই ইসলামে যে জঙ্গিবাদের স্থান নেই, সন্ত্রাসবাদের স্থান নেই, ইসলাম যে পবিত্র ধর্ম, শান্তির ধর্ম এই বিশ্বাসটা যেন মানুষের মধ্যে আসে। সে বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি, তেমনি ছিলেন মনেপ্রাণে একজন ইমানদার মুসলমান। এ দেশে ইসলামের সঠিক চর্চা এবং গবেষণা পরিচালনার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামের প্রচার-প্রসারে জাতির পিতার সাড়ে তিন বছরের সরকারের অবদান সমকালীন মুসলিম বিশ্বে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি আইন করে মদ, জুয়া, হাউজি, ঘোড়দৌড় ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেন। বঙ্গবন্ধুই জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ, বেতার ও টেলিভিশনে দিনের অনুষ্ঠান শুরু সমাপ্তিতে কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা গ্রহণ, শবেকদর ও শবেবরাতে সরকারি ছুটি ঘোষণা, বিশ্ব ইজতেমার জায়গা ও কাকরাইল মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য জমি বরাদ্দ, কওমি মাদ্রাসার জন্য জামিয়া মাদানিয়া দারুল উলুম যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার জন্য জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনকালেও বঙ্গবন্ধু ওআইসির সদস্য পদ গ্রহণে সমর্থ হন। তিনি বলেন, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে তাবলিগ জামায়াত পাঠান এবং একাধিক ধর্মীয় প্রতিনিধিদল সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেন। আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ত্রাণসামগ্রী ও মেডিক্যাল টিম প্রেরণ করেন। হজযাত্রীরা যাতে স্বল্প ব্যয়ে হজ করতে পারেন এ জন্য তিনি ‘হিজবুল বাহার’ নামে একটি জাহাজ ক্রয় করেন। অথচ যা পরবর্তী সময়ে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখলের পর প্রমোদতরীতে পরিণত করে। জিয়া সরকার মদ ও জুয়ার অবাধ লাইসেন্স প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে ‘আইডিবি চার্টার’-এ স্বাক্ষর করেন। তাঁর শাহাদাতের পর এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতিরা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু একবারও তারা জাতির পিতার অবদানের কথা স্বীকার করেনি বরং তাঁকে ইসলামবিদ্বেষী বলে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালায়।

অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী একযোগে কোরআন শরিফ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পবিত্র কোরআন বিতরণ করেন। এ দিন সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত একযোগে চার লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০টি কোরআন শরিফ বিতরণ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যদি শন্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে আর কোনো মানুষ গরিব থাকবে না, কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবে না, কেউ গৃহহারা থাকবে না, প্রতিটা মানুষের উন্নত জীবন যেন হয়, সেটা আমরা করতে পারব—সেই বিশ্বাস আমার আছে।   সূত্র : বাসস।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণটি নওগাঁর ১০২টি স্থানে একযোগে সম্প্রচার করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় জেলার ৯৯টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌর এলাকায় ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে নওগাঁ শহরের সরকারি কেডি স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল মালেক। এর আগে সকালে শহরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়।


মন্তব্য