kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিএনপি

প্রহসনের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রহসনের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে

প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিশ্ববাসীকে বোকা বানাতে চায়। উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি নির্বাচনের মতোই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট ডাকাতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের উল্লেখ করে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আজকের ইউপি নির্বাচনের আগের দিন গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে। আমরা আগেই খবর পেয়েছিলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভোটের আগের রাতেই সব ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়। আজকের (গতকাল) ইউপি নির্বাচনেও একই ধরনের চিত্র। সরকার ও ইসির এই প্রহসনের নির্বাচনকে আজকাল অনেকে ‘দিস ইজ দ্য ইলেকশন প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এই প্রকল্পের নাম করে নির্বাচন দেখিয়ে তারা আসলে জনগণ ও বিশ্ববাসীকে বোকা বানাতে চায়। ”

গতকাল দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ফখরুল। জিয়া পরিষদের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেন বিএনপির এই নেতা। প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক দল বলে প্রহসন জেনেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমাদের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেভাবে আগ্রহের সঙ্গে এসব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, একই সঙ্গে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে ফল ছিনিয়ে নিচ্ছে তাতে সরকার যে তথাকথিত মুখোশ পরে আছে, তা উন্মোচিত হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনোই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ’

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে চেয়ারপারসনকে আরো ক্ষমতা দিয়ে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে বলে যে প্রশ্ন উঠেছে তা নাকচ করে ফখরুল বলেন, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়নি। ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালাইজেশন বলে একটা কথা আছে। কাউন্সিলই গণতান্ত্রিকভাবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা দিয়েছে। এমন না যে তিনি নিজেই ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছেন। এদিকে ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, পেশিশক্তির ব্যবহার ও সহিংসতার অভিযোগ এনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল দুই দফা সংবাদ সম্মেলন করেন। সকালে ভোট শুরু এবং বিকেলে ভোট শেষ হওয়ার পর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়। উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতোই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট ডাকাতি হয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার হিংসাশ্রয়ী নীতি নিয়ে ইউপি নির্বাচন করছে। আর এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনই একটি দলের পক্ষে সিল মারছে। তারা নির্লজ্জভাবে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

নির্বাচনে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, কিছু লোক বলে থাকেন যে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, নির্বাচনের ভয়াবহ পরিণতি কী তা আপনারা দেখছেন, বিশ্ববাসী দেখছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সব কটি ভোটকেন্দ্র দখল করে নিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। কেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে তারা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারার তাণ্ডব চালিয়েছে। ভাণ্ডারিয়া থানার ইকরি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর, রাজনগর, কালীনগর, রসুনিয়া ও মধ্যপাড়া ইউনিয়নের সব ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ব্যালট পেপারে সিল মারছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। পটুয়াখালী, বরিশাল, ঢাকার দোহার, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ আনেন তিনি।

এর আগে সকালে একই স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে প্রায় সব কটিতেই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে ছিল মারছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম তা শতভাগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। ’

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, চাকরি বাঁচাতে মানুষ এত নিচে নামতে পারে তাদের না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। অথচ প্রশাসনের মাধ্যমে শাসকদলের সন্ত্রাসীদের দমাতে পারলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতো।


মন্তব্য