kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

দ্রুতই বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দ্রুতই বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শিগগিরই দলের নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, সংগঠনের ষষ্ঠ কাউন্সিল দেশনেত্রীকে কাউন্সিল কমিটির বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছে।

এই এখতিয়ার নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার অবকাশ নেই।

গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। গত শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের গৃহীত প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তগুলো জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এক ব্যক্তি এক পদ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মধ্যে যাঁদের দ্বিতীয় পদ রয়েছে তাঁরা ওই পদ থেকে সরে দাঁড়াব। যদি চেয়ারপারসন মনে করেন যে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে বিশেষ প্রয়োজনে অতিরিক্ত পদ দেওয়া প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে তিনি সাময়িকভাবে দিতে পারেন। ’

‘ভিশন-২০৩০-এর খসড়া প্রস্তাব প্রণয়নে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি’—ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এমন খবর প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পত্রিকাটির এই রিপোর্ট সঠিক নয়।

এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ওই পত্রিকা জানে না। বিএনপির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার যদি আমাদের চেয়ে অনেকেই বেশি জানে তাহলে তো মুশকিল। ’ তিনি বলেন, ‘এবার গঠনতন্ত্র সংশোধনে বলা হয়েছে যে দলের সব পর্যায়ে কমিটিতে নারীর সংখ্যা কমপক্ষে ১০ শতাংশ হবে।

এই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে, যাতে করে ২০২০ সালের মধ্যে আমরা তা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করতে পারি। ’

কাউন্সিলের কর্ম অধিবেশনে খালেদা জিয়ার বক্তব্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিক্রিয়াকে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমাদের চেয়ারপারসনের বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। বক্তব্যে তিনি সরাসরিই বলেছেন—এটা এভাবে করলে ভালো হবে। আমরা আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে চাই। অর্থাৎ নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকবে, সেটাই আমরা চাই। সে সময়ে সেই নিরপেক্ষ সরকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন না। এটাই আমাদের আশা। অর্থাৎ তিনি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। সব দলের অংশগ্রহণে সেই নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। অথচ খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা মনে করি এটা জনগণ ও জনমত বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। ’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্মেলনকে অভিনন্দন জানাবেন। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লক্ষ করলাম, তারা সেটা না করে বরং ম্যাডামের একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এমন সব কথা বলছে, যা গণতন্ত্রকে আরো কণ্টকাকীর্ণ করছে। ’

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে সরকারের পাঠানো অভিযোগ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘সরকারের সেই অভিযোগ ইন্টারপোল তদন্ত করে দেখেছে যে ওই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। অবশেষে তারা (ইন্টারপোল) সেই ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করেছে। আমরা আশা করব, এই বিষয়টা নিয়ে এখন থেকে আর কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হবে না। ’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সহযোগিতার জন্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ, পিডাব্লিউডি, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগসহ গণমাধ্যমের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনের কর্মসূচি : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সকালে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী বিএনপি ২৫ মার্চ আলোচনা সভা করবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন খালেদা জিয়া। ২৬ মার্চ সকাল ৭টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপি চেয়ারপারসনসহ দলের নেতাকর্মীরা। বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের হবে স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা। এ ছাড়া ২৬ মার্চ ভোরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশপাশি জেলা, মহানগর ও উপজেলায় স্থানীয়ভাবে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঠিক করা হবে।


মন্তব্য