kalerkantho

25th march banner

‘ভয় দেখানো হচ্ছে সাক্ষীদের, পিপি নূর হোসেনের লোক’

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘ভয় দেখানো হচ্ছে সাক্ষীদের, পিপি নূর হোসেনের লোক’

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, অপ্রস্তুত অবস্থায় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। এ ছাড়া আসামিদের বিশেষ অঙ্গভঙ্গির কারণে সাক্ষীরা ভয় পাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও নীরব থাকছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি। পিপির আচরণে প্রতীয়মান হয় তিনি নূর হোসেনের লোক।

গতকাল সোমবার সাত খুনের দুটি মামলায় আদালতে পূর্বনির্ধারিত সাত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন। জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে গতকাল সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অপ্রস্তুত অবস্থায় সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা অনেক প্রশ্নের উত্তর ঠিকমতো দিতে পারছেন না। এ ছাড়া আদালতে জেরার সময় আসামিদের অঙ্গভঙ্গির কারণে অনেক সাক্ষী ভয় পেয়ে যান। ওই সময় আমরা প্রতিবাদ করলেও পিপি জোরালো কোনো আপত্তি করেন না। এতে করে আমরাও শঙ্কিত। আদালতে শুনানির সময় পিপির আচরণে প্রতীয়মান হয় যে তিনি নূর হোসেনের লোক। ’

অন্যদিকে পিপি বলছেন, সাখাওয়াত হোসেনের এসব অভিযোগ সত্য না। সাক্ষ্য জেরার সময়ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কখনো আমাকে ভর্ত্সনা করেন। কিন্তু আমি কোনো কিছুতেই বিচলিত না। মামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য আমি কাজ করছি। ’

এদিকে গতকাল আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণকালে সাত খুনের দুটি মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ও অন্যতম আসামি চাকরিচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর অবসরে পাঠানো লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদের পক্ষে ষষ্ঠবারের মতো সময় আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল পূর্বনির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে এ দুজনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা সময় আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৮ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত সাক্ষী হিসেবে একজন বিচারিক হাকিমসহ সাত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগার থেকে ২৩ আসামিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, গতকাল উপস্থিত ২৩ আসামির মধ্যে ২১ জন ও পলাতক ১২ আসামির আইনজীবীরা সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিন। অন্য ছয় সাক্ষী হলেন পুলিশের এসআই বেলায়েত হোসেন, মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল রমজান হোসেন এবং প্রত্যক্ষদর্শী ফখরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর ও আবুল কালাম আজাদ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল ও ১ মে শীতলক্ষ্যা থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার ও নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায়ই অভিন্ন সাক্ষী হলেন ১২৭ জন করে। এ কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একই সঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।


মন্তব্য