kalerkantho


চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং ছিয়াং

গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে অন্য দেশও যুক্ত হতে পারে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে অন্য দেশও যুক্ত হতে পারে

সোনাদিয়া বা পায়রা কিংবা যেখানেই হোক না কেন, প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রয়োজনে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েও চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিং ছিয়াং গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।

কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উল্লেখ্য চীন, ভারতসহ আরো অনেক দেশ বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কৌশলগত কারণে এ ধরনের বন্দর নির্মাণের কাজ পেতে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানালেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে সহযোগিতা প্রশ্নে চীনা রাষ্ট্রদূত গতকাল বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে সহযোগিতা করতে আমরা এখানে আছি। অবশ্যই এ সহযোগিতা উন্মুক্ত এবং এটি একচ্ছত্র নয়। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গেই সহযোগিতায় আগ্রহী। ’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর নেই। কিন্তু বাণিজ্য সুবিধা জোরদারে এটি প্রয়োজন।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশে উপস্থিতির সম্ভাবনাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত মা মিং ছিয়াং বলেন, চীন বাংলাদেশকে অনিরাপদ মনে করে না। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হামলার সঙ্গে আইএস ছিল, না সন্ত্রাসীরা ছিল, সে বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পুলিশ ও র‌্যাবের তদন্তের ওপরই নির্ভর করতে চায়।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি একজন কূটনীতিক হিসেবে আগেই কোনো অনুমান করতে পারি না। অনুমানের ভিত্তিতে চীনের লোকজনকে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বলতে পারি না। ’

তিনি বলেন, সন্ত্রাস কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। সারা বিশ্বের সমস্যা। কোনো একটি দেশ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, এককভাবে সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে পারবে না।

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ দেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ বছর কিছুটা ভিন্ন বছর হবে। কারণ এ বছর চীনের অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবে।

তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা থাকা উচিত। আর যখন বিনিয়োগ প্রয়োজনীয়তা থাকবে তখন তা (বিনিয়োগ) স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আসবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে অনেক চীনা গোষ্ঠী (গ্রুপ) বাংলাদেশে আসছে। ’

১৯৭৫ সাল থেকেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বিশেষ পর্যায়ে এসেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। দুই দেশ সহযোগিতার সমন্বিত অংশীদারি প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চীনের কাস্টমসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দেশের বাণিজ্য গত বছর এক হাজার ৪৭০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, সাতটি চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুসহ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে চীন ব্যাপক সহায়তা দিয়েছে। সম্প্রতি চীন ও বাংলাদেশ অষ্টম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু এবং চীন-বাংলাদেশ প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে একমত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সংস্কারকাজেও চীন বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, তাঁর দেশের সরকার বাংলাদেশকে চিকিৎসা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও কৃষি উপকরণ দেবে। বর্তমানে এ দেশে সমন্বিত বন্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা এবং হাইব্রিড ধান প্রযুক্তি উৎসাহিত করার বিষয়ে চীন কাজ করছে।  

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়। গত বছর প্রায় এক হাজার সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর শিক্ষার জন্য চীনে গেছেন।

শিল্প উৎপাদন খাতে সহযোগিতাকে চীনের ‘এক বলয় ও এক পথ’ উদ্যোগের মুখ্য উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মা মিং ছিয়াং। তিনি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই বাংলাদেশকে অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তি দিতে আগ্রহী। এ ছাড়া বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পায়নে অর্থ, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষক দিতেও চীন আগ্রহী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নকে আরো শক্তিশালী করতে এবং আরো বেশি সংখ্যক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে চীন বাংলাদেশের শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে চায়।

ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমানও বক্তব্য দেন।


মন্তব্য