kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও অর্থায়ন

ব্যারিস্টার ফারজানাসহ অভিযুক্ত ২৮

এবারও বাদ জুনায়েদসহ ৪২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যারিস্টার ফারজানাসহ অভিযুক্ত ২৮

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার লটমণি পাহাড়ে জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের আস্তানা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে র‌্যাব। বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ২৮ জনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এই ২৮ জনের মধ্যে শাকিলার দুই সহকর্মী আইনজীবীও রয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে জঙ্গি কর্মকাণ্ড ও অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে হামজা ব্রিগেডের কথিত প্রধান মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক আল্লামা লিবদি ওরফে জুনায়েদসহ ৪২ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না পাওয়ায় তাদের নাম অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি। এর আগে হালিশহর থানার একটি মামলা থেকেও বাদ পড়েছিল লিবদিসহ কয়েকজনের নাম। এ ছাড়া হাটহাজারী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরো একটি মামলায় লিবদির নাম বাদ পড়তে যাচ্ছে।

গতকাল রবিবার বাঁশখালী উপজেলার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম সাজ্জাদ হোসেনের আদালতে অভিযোপগত্রটি দাখিল করেন র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমিন। মামলার আগামী ধার্য তারিখে অভিযোগপত্রের বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ধর জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ১০২ জনকে। আসামিদের মধ্যে ২১ জন কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক। ’

শহীদ হামজা ব্রিগেডের কথিত প্রধান আল্লামা লিবদি ওরফে জুনায়েদসহ ৪২ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ প্রসঙ্গে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘লিবদিসহ ৪২ জনের নাম-ঠিকানা তথা পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা, জঙ্গিরা ছদ্মনাম-ঠিকানা ব্যবহারের কারণে এমনটা হয়েছে। এর পরও তাদের নাম-ঠিকানা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ আছে। ’

মামলার আসামিদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ছাড়াও তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আইনজীবী হাসানুজ্জামান লিটন, মাহফুজ চৌধুরী বাপন, পোশাক কারখানা গোল্ডেন টাচের পরিচালক এনামুল হক, হামজা ব্রিগেডের নেতা মনিরুজ্জামান ডনসহ ঘটনার সময় গ্রেপ্তারকৃত মো. মোবাশ্বের হোসেন, মো. আব্দুল খালেক হুরাইরা (২১), মো. আমিনুল ইসলাম হামজা (২২), হাবিবুর রহমান তাসিম (১৯) ও মো আমির হোসেন ইসহাকের নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সূত্র।

গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী উপজেলায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যাব। এর আগে হাটহাজারী থানার একটি মাদ্রাসায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে বাঁশখালীর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মুরগি ও গরুর খামারের আড়ালে ওই আস্তানায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলে র‌্যাবের তদন্তে উঠে আসে। ওই দিন লটমণি পাহাড় থেকে তিনটি একে ২২ রাইফেল, একটি রিভলবার, ছয়টি পিস্তল ও দেশে তৈরি তিনটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ৭৫২টি গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, তিনটি চাপাতি, দুটি ওয়াকিটকি ও ২৩টি প্রশিক্ষণ পোশাক পায়। ওই আস্তানায় ফায়ারিং জোনও দেখতে পেয়েছিল র‌্যাব।

শহীদ হামজা ব্রিগেডের প্রশিক্ষণরত সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী এবং অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এ দুটি মামলায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

এর আগেই হাটহাজারী থানা এবং হালিশহর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরো দুটি মামলা করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত পর্যায়ে র‌্যাব নিশ্চিত হয় চট্টগ্রামভিত্তিক এই জঙ্গি সংগঠনটির নাম শহীদ হামজা ব্রিগেড। এই সংগঠনকে অর্থায়ন করা থেকে সংগঠিত করার কাজ করছিলেন আল্লামা লিবদি ওরফে জুনায়েদ।

মামলার তদন্তকালে র‌্যাব রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গত বছরের ১৮ আগস্ট রাতে আটক করে বিএনপি নেতা ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, তাঁর সহকর্মী আইনজীবী লিটন ও বাপনকে। তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে হামজা বিগ্রেডকে এক কোটি আট লাখ টাকা সহায়তা করার অভিযোগ আনে র‌্যাব। এরপর তাঁদের বাঁশখালী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে ফারজানার স্বজনরা তখন দাবি করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে জামিন করানোর কারণে ফারজানাকে জঙ্গিদের অর্থের জোগানদাতা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

অন্যদিকে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী তুরাগ থানাধীন তালতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পোশাক কারখানা গোল্ডেন টাচের পরিচালক এনামুল হককে। একটি ব্যাংকে ১৬ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে আটক এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা মিফতা উদ্দিন আহমেদ জানান, শহীদ হামজা ব্রিগেডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরে চারটি মামলা আছে। এসব মামলার তদন্তকালে শহীদ হামজা ব্রিগেডের কর্মকাণ্ড এবং জঙ্গিপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারা কিভাবে জঙ্গি সংগঠনটিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে, কারা আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে—সব তথ্যই পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বাকি দুটি মামলার তদন্তও প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে। শিগগিরই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।


মন্তব্য