kalerkantho


শাহজালালের নিরাপত্তায় ব্রিটিশ সংস্থা রেডলাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শাহজালালের নিরাপত্তায় ব্রিটিশ সংস্থা রেডলাইন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা ‘রেডলাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস’কে। গতকাল রবিবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রেডলাইনের জনবলের সংখ্যা হবে ২৯ জন। এর মধ্যে স্ক্যানিং অপারেটর থাকবেন ২৪ জন। দুই বছরের জন্য খরচ পড়বে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আজ সোমবার থেকেই তারা নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠকে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। নিরাপত্তা সংস্থা জিএসএ, রেডলাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস, রেসট্রাটা পিলগ্রিমস গ্রুপ অ্যান্ড অ্যাডাম স্মিথ ইন্টারন্যাশনাল এবং ওয়েস্ট মিনস্টার এভিয়েশন সিকিউরিটি সার্ভিসের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দিলে কত টাকা খরচ পড়বে তা নিয়েও আলোচনা হয়। সব দিক বিবেচনা করে রেডলাইনকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছরের ৩১ অক্টোবর মিসরে রাশিয়ার একটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ৩৮ দেশের বিমানবন্দরের ওপর পর্যবেক্ষণ শুরু করে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৭৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প ক্রয় কমিটিতে অনুমোদন করেছি। এর ফলে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা রেডলাইনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছি। আগামীকাল (আজ) থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এর ফলে বিমানবন্দরে যে সংকট দেখা দিয়েছিল তা দূর হবে। কার্গো পরিবহনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার হবে বলে আমরা আশা করি। ’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, রেডলাইন নীতিনির্ধারণী লেবেলে পরামর্শ দেবে। আসবে মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী দলও। ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে বলে আশা করছি।

সূত্র জানায়, গত ৮ মার্চ অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেবিট ক্যামেরন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান। আবার বাংলাদেশ থেকে চিঠির জবাব পাঠানো হয়। এর পর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তার চেহারা পাল্টে যায়। অনেকটা বিশ্বমানের আদলেই নিরাপত্তা পরিধি বাড়ানো হয়। সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ থেকে পুরোদমে রেডলাইন নিরাপত্তা কাজ শুরু করবে। তাদের কাজ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের অনুরোধ ছিল, ফলে তাদেরই মনোনীত করা হয়। অথচ অন্য সংস্থার বাজেট ছিল অনেক কম। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাইবারবিষয়ক উপসমন্বয়কারী টমাস ডিউকসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে ২২ ও ২৩ মার্চ। বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সিউয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২৯ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালেন বারসিনের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদলের ৩০ ও ৩১ মার্চ বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে।


মন্তব্য