kalerkantho


দায়িত্ব নিলেন নতুন গভর্নর

অর্থ উদ্ধারে অগ্রাধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দায়িত্ব নিলেন নতুন গভর্নর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগ দিয়েই রিজার্ভের চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার এবং কর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করার ঘোষণা দিলেন গভর্নর ফজলে কবির। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় ফজলে কবির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছেন।

যোগদানপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষিপ্তভাবে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে এই কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির প্রেক্ষাপটে ১৫ মার্চ পদত্যাগ করেন ড. আতিউর রহমান। ওই দিনই সাবেক অর্থসচিবকে গভর্নর করার ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে। ১৬ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করে ফজলে কবিরকে পরবর্তী চার বছরের জন্য গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।     

ফজলে কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আজকেই যোগদান করেছি। কিছুক্ষণ আগেই যোগদানপত্রে স্বাক্ষর করলাম। তার কিছুক্ষণ আগে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। সেখানকার সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। ’

গভর্নর বলেন, ‘আপনারা হয়তো আমার যোগদানের পর প্রায়োরিটি (অগ্রধিকার) জানতে চাচ্ছেন।

প্রায়োরিটি তো সবাই জানেন। আমাদের (বাংলাদেশ ব্যাংক) সিস্টেম থেকে বা বাইরের ব্যাংকে রাখা আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে আট কোটি ১০ লাখ ডলার বের হয়ে গেছে। এটা উদ্ধার-প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সেটা উদ্ধার করাই আমার প্রথম প্রায়োরিটি হবে। এক নম্বর প্রায়োরিটি। ’

নতুন গভর্নর আরো বলেন, ‘তার পরেই গুরুত্ব দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না হয়, এর জন্য কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, বিশেষ করে আইটি নিরাপত্তাব্যবস্থা; সেগুলো আমরা দেখব, সেগুলোও আমাদের প্রায়োরিটি। ’

ফজলে কবির বলেন, ‘তবে এ ব্যাপারে বলতে হয়, সরকার সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, ওই কমিটির প্রতিবেদন দেবে, তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসবে, সুপারিশ আসবে, তাদের টিওআরের (টার্ম অব রেফারেন্স) সব স্পষ্ট করা আছে, সে অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থাগুলো নেব। ’

ফজলে কবির আরো বলেন, ‘আর এ ছাড়া আমাদের যে ঘটনাটি হয়ে গেছে, এই ঘটনাটির প্রেক্ষিতে সাধারণত দেখা যায় যে আস্থার অভাব হয়ে যায় কর্মকর্তাদের মাঝে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে লস অব কনফিডেন্স আসতে পারে, সেটা যেন না আসে, তারা যেন নির্ভয়ে কাজ করতে পারে, সেটা রিকভার করতে হবে এবং ব্যাংক অফিশিয়ালরা যাতে আগের মতো গুণগত ও পরিমাণগত মানসম্পন্ন কাজ করতে পারে সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। ’

রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় সতর্ক হওয়ার আছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘আমরা বলতে পারি, এটা একটা ওয়েক আপ কল হয়েছিল আমাদের। এর পরই আমাদের আরো বেশি প্রি-কশন নিয়ে, আরো বেশি সিকউরিটি মেজার্স নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। ’

গভর্নর আরো বলেন, ‘আমি পরবর্তীতে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে বসব, ডেপুটি গভর্নর, এক্সিকউটিভ ডিরেক্টরদের সবার সঙ্গে বসব, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করব, মোটামুটি এই লাইনে...। ’

এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে কবির বলেন, ‘আতিউর রহমানের ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং, মানবিক ব্যাংকিং—এগুলো যেভাবে চলছে, সেভাবে চলবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য যেসব কর্মসূচি আছে, সেগুলো যথারীতি চলবে। ’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের আরো ডেভেলপ করব, কোথায় ত্রুটি আছে, কোথায় আরো উন্নয়ন করতে হবে সেগুলো আমরা করব। ’

এদিকে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের তদন্ত কমিটি গতকাল থেকে তাদের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে এদিন তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেনি। এ ছাড়া তদন্ত কমিটি কোথায় বসে কাজ করবে তাও এখনো ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফরাসউদ্দিন স্যাররা যদি চান বাংলাদেশ ব্যাংকে বসেই তদন্তকাজ করবেন, তবে তাঁদের সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। ’

গতকাল দুপুরে তদন্তের কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনে যান সিআইডি কর্মকর্তারা। দলে ছিলেন পাঁচজন।


মন্তব্য