kalerkantho


তিতাসের এমডিকে অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তিতাসের এমডিকে অপসারণ

দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ থেকে প্রকৌশলী নওশাদুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়েছে। তাঁকে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা কম্পানির এমডি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি ও আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে এ কথা জানান। তিনি আরো জানান, তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (ভিজিল্যান্স) প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত রাতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. ইশতিয়াক আহমেদ তিতাসের এমডি নওশাদুল আলমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘এমডির নেতৃত্বে সিন্ডিকেট, তিতাসে ভয়াবহ দুর্নীতি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নিজস্ব অনুসন্ধান এবং তিতাসের পরিচালনা পর্ষদের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হয়।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্পানির ভালুকা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান ঝন্টু, গাজীপুর অঞ্চলের ব্যবস্থাপক আ ম সাইফুল ইসলাম, ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক শহিরুল, চন্দ্রার উপব্যবস্থাপক তোরাব আলী এবং সিবিএ নেতা ফারুক হাসানকে নিয়ে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী নওশাদুল ইসলাম একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তাঁরা কারখানা মালিকদের ঘুষ দিতে বাধ্য করেন; ঘুষ নিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেন।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু নওশাদ নন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে। তিতাসের এমডি পরিবর্তনই শুধু নয়, আরো অনেক পরিবর্তন আসছে। গ্রাহকের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিতাসে সব সময়ই ঘুষ দিতে হয়েছে। এমডি নওশাদ সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ঘুষ নিতেন তিনি। ’

তিতাসের পরিচালনা পর্ষদের গঠন করা কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনেও এমডি ও তাঁর সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ রাজধানীর বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনার পরও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন তিতাসের এমডি। ঘটনার পর রাত ৩টায় প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ নওশাদুল ইসলামকে ফোন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি গ্যাসলাইন তখনি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিন দিনেও গ্যাসলাইন বন্ধ করেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।


মন্তব্য