kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তিতাস এলাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তিতাস এলাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে

বনানী ২৩ নম্বর সড়কে গ্যাস বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর এর বাসিন্দারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। ভবন ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে এক বাসিন্দা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিতাস এলাকায় গ্যাস দুর্ঘটনা বাড়ছে। গত কয়েক মাসে গ্যাস বিস্ফোরণজনিত আগুনের ঘটনায় বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত কমিটি হয়েছে ঘটনার পর, তারা দায় চাপিয়েছে বাড়িওয়ালার ওপর। গত ১৫ মাসে এ ধরনের দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৭ মার্চ তিতাসের পাইপলাইনে লিকেজের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বনানীতে। এতে একটি ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক তিতাস কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন এবং ক্ষতিপূরণ চান। আর তিতাস দায় চাপায় ডিএনসিসির ওপর।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনার কারণ জানতে তিতাসের মহাব্যবস্থাপককে (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তিতাস। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পেট্রোবাংলাও একটি কমিটি করেছে। চার সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সংস্থাটির পরিচালক প্রশাসনকে। তাদেরও সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল বনানী-গুলশান এলাকায় একটি টিমকে জরুরিভিত্তিতে নিয়োজিত করার কথা জানিয়েছে তিতাস। কোথাও গ্যাসের লিকেজ টের পাওয়া গেলে টিমকে দ্রুত জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

গত মাসে রাজধানীর উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটে গ্যাসের পাইপলাইনে লিকেজজনিত আগুনে পুড়ে গৃহকর্তা শাহনেওয়াজ, তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম ও তাঁদের দুই শিশু সন্তান মারা যায়। ওই ঘটনা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজের কারণে ঘটেনি। তিতাসের নিম্নমানের পাইপের কারণে ঘটে। তদন্ত কমিটির এর দায় চাপায় বাড়িওয়ালার ওপর।

গত ১৫ মাসে রাজধানীতে গ্যাস সংযোগে ত্রুটিজনিত আগুনে পুড়ে ২৬ জন মারা গেছে এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। অবৈধ সংযোগের কারণেও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইনের সুরক্ষার জন্য ক্যাথডিক প্রটেকশনের (সিপি) ব্যবস্থা করা হয়। এ ব্যবস্থা পাইপের ক্ষয় রোধ করে। ইদানীং নিম্নমানের সিপি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদাররা এসব ব্যবহার করছে। ফলে পাইপলাইনের ক্ষয় বাড়ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটছে।

জরুরি টিম নিয়োগ

গতকাল রাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বনানী ও গুলশান এলাকায় স্টর্ম সুয়্যার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এর জন্য রাস্তা খোঁড়ার কাজ চলছে। খননে গ্যাসলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে লিকেজ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই এলাকাবাসীর জানমালের স্বার্থে তিতাস গ্যাসের একটি জরুরি টিম সার্বক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশনের প্রকল্প এলাকায় থাকবে। খননস্থলের আশপাশে গ্যাস লিকেজ হলে (গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে) দ্রুত জরুরি টিমকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

জরুরি টিমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কয়েকজনের নামসহ ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। তাঁরা হলেন মো. হাফিজ উদ্দিন ০১৮২৩৬৩২৩০৩; মো. জামাল হোসেন ০১৭১৫৪১১৫৯৩ এবং শাহ মো. আকমল ০১৭১১৩৫২৮৭৭।

বাসাবাড়িতে গ্যাসের লিকেজ টের পাওয়া গেলে দ্রুত দরজা-জানালা খুলে দিয়ে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তিতাস গ্যাসের জরুরি টিমকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


মন্তব্য