kalerkantho

26th march banner

শাহজালালের নিরাপত্তায় ব্রিটিশ সংস্থা নিয়োগ

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাজ্যের কোন সংস্থা পালন করবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সিভিল এভিয়েশনকে। আলোচনা চলছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা রেডলাইন অ্যান্ড কন্ট্রোল রিস্কস, ওয়েস্টমিনস্টার এভিয়েশন সিকিউরিটি সার্ভিস ও রেসট্রাটা পিলগ্রিমস গ্রুপকে নিয়ে। গতকাল শনিবার সিভিল এভিয়েশন অফিসে দিনভর জরুরি বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা গেছে, রেডলাইন প্রশিক্ষণ আর ওয়েস্টমিনস্টার কারিগারি সহায়তা দিতে বেশি পারদর্শী।

তাদের পেছনে খরচ করা নিয়েও চলছে আলোচনা। রেডলাইন দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশের খরচ হবে  দুই বছরের জন্য ৭৪ কোটি টাকা, ছয় মাসের জন্য ৫৮ কোটি টাকা। আর ওয়েস্টমিনস্টারের পিছে দুই বছরের জন্য খরচ হবে ৪৯ কোটি টাকা ও ছয় মাসের জন্য ১৬ কোটি টাকা। রেসট্রাটাও এই বাজেট দিয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের দুর্বলতা রয়েছে রেডলাইনের ব্যাপারে।

জানা গেছে, আজ আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সংস্থার নাম চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়ক ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ সরকারকে অবহিত করবে। চলতি মাসেই তারা দায়িত্ব পালন শুরু করবে। এর পরপরই যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় কার্গো রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী।     

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শাহজালালের নিরাপত্তার জন্য ব্রিটিশ কোন সংস্থা দায়িত্ব পালন করবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দুটি সংস্থাকে আমরা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছি। তবে তাদের পেছনে খরচ করা নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানো ও ব্রিটিশ সংস্থাকে মনোনীত করতে গতকাল জরুরি বৈঠক হয়েছে। তার পরও আমরা কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। বিদেশিদের হাতে শাহজালাল বিমানবন্দর তুলে দেওয়া হবে না, এই কথা বলতে পারি। আগে আমাদের দেশের স্বার্থ বিবেচনা করব। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা টেকসই করতে হবে। আর এই জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ’ ব্রিটিশ সংস্থা দায়িত্ব পাওয়ার পর কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে বলে তিনি জানান।

সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, রেডলাইন বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আর ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্বের ৮০টি দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তার জন্য ‘কারিগরি সহায়তা’ দিয়ে থাকে। ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া যেসব কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তাতে ওয়েস্টমিনস্টারের চাহিদা হবে বেশি। কারণ তাদের কাছে স্ক্যানিং মেশিন থেকে শুরু করে সব ধরনের যন্ত্রপাতি থাকবে। আর রেডলাইন শুধু প্রশিক্ষণ দেবে। তা ছাড়া রেসট্রাটাও আলোচনায় পিছিয়ে নেই। তাদেরও বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে রেডলাইনকে দায়িত্ব দিতে ব্রিটিশ সরকারের দুর্বলতা রয়েছে। এমনও হতে পারে আলোচিত দুটি সংস্থাকেই শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যারাই দায়িত্ব পাবে তাদের সঙ্গে ছয় মাস পরে দুই বছরের চুক্তি করা হবে।


মন্তব্য